নয়দুয়ারেরর নাপিত্যাছড়া ঝরণা

মন খারাপ। রাতে ঠিক করা ছিল বাঁশবাড়ীয়া বিচ দেখতে যাব। জোয়ার থাকলে গা ভিজানো ও হবে। রাজুর সাথে সকালে বাসে উঠার আগে একবার বলছি সীতাকুন্ডের পুরোনো থানা দেখতে যাব তো আরেকবার বলছি সীতার পাহাড়ে যাব। বলতে বলতে সামনে একটা বাস দাড়িয়ে গেছে। তখনো ঠিক হয়নি কোথায় যাব। বাসে উঠে গেলাম।

সীতাকুন্ড বা মীরসরাই মানেই রাস্তার খুব কাছ থেকে পাহাড় দেখা। পাহাড়ের দুই কন্যা কে পাহাড় আগলে রেখেছে। হাইওয়ে ধরে বাস যেতে যেতে পাহাড়ের নানা রুপ চোখে পড়ে।

Sazzad ভাই চ্যাটে বলল নয়দুয়ার নেমে পূর্ব দিকে হাটাঁ শুরু করতে। এ ঝর্ণটার বেশ নাম ছড়িয়েছে কিন্তু প্রবেশ করার সড়কটা দেখে বোঝার উপায় কই?

সামনের দিকে হাটা শুরু। পাকা রাস্তা কিছু দূর যাওয়ার পর আর নেই। মাটির রাস্তা ধরে এগোতে থাকে। যারা গ্রামের পথের ধুলোয় বেড়ে উঠেছেন তাদের থেকে যেতে ইচ্ছে করবে। অল্প দূরেই পাহাড় দাড়িয়ে। আর কিছুটা যেতেই একটা দোকান আছে। সেটার সামনে হয়ে যে রাস্তাটা গেছে ওটা ধরে গেলেই চোখে পড়বে একটি ছড়ায় পানি আসছে পাহাড়ের ওদিক থেকে। ঝর্ণা দেখতে যাওয়ার এই একটা সুবিধে। সে নিজেই পথ চিনিয়ে নিয়ে যায়।

গ্রাম এখানেই শেষ। গ্রাম বলতে আমাদের গ্রাম। পানি ধরে হাটতে হাটতে চোখে পড়ল কয়েকজন আদিবাসী শিশু। কেউ পানি আনছে কেউ গোসল করছে। এই ছড়ার পানিই তাদের একমাত্র ভরসা। এখানে বেশ কিছু ত্রিপুরা পরিবার আছে। ঝরণা দেখতে এসে চাইলে আদিবাসী জীবন ও দেখে যেতে পারেন।

এই অংশটা পেরোলেই পাথুরে রাস্তা শুরু। শুরুতে পথটা সমতল থাকে। কখনো ঝিরিপথে হাটা আবার কখনো পাহাড়ের সরু পথ বেরিয়ে হাটতে থাকা। যত সামনে যাওয়া যায় রাস্তা ততটাই কঠিন। কোথাও খুব সংকীর্ণ
পথ যে একটু অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা ঘটবে। আমরা হাটতেই পারছিলা্ম না কিন্তু কয়েকজন ত্রিপুরাকে দেখলাম এই পথেই কাধেঁ করে কত কি আনছে।

দুটো জায়গায় বাধঁ দিয়ে মাছ ধরতে দেখলাম ত্রিপুরাদের। ওদের কি আনন্দ। পাহাড়ের সাথেই বসত আর আমরা কালেভদ্রে আসি। ওরা শীতের পাহাড় থেকে মুষলধারের বৃষ্টির পাহাড় ও দেখতে পারে।

বেশিরভাগ পাথর পিচ্ছিল হয় না। কিন্ত পানির নিচে থাকা পাথর গুলোতে হাটতে হয় সাবধানে। একটা পা ফসকালেই শেষ। কিছু কিছু জায়গায় বড় গর্তের মত আছে সেখানে আগে না নেমে একটা লাঠি নিয়ে গভীরতা দেখে নেয়া নিরাপদ।

কিছু কিছু অংশে পথটা ছায়ায় ঢেকে যায়। অন্ধকারের মধ্যে পাহাড়ের সাদা শরীরটা চোখে পরলে সাপের ভয় পেয়ে বসে।

উচুঁ একটি বাঁধ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে। ও পাড় টা নীচ থেকে দেখা যায় না। পাহাড় ঘেষে উঠলেই সমতল একটা জায়গা এরপর আবার সেই ঝিরিপথ।

তবে এবার আর পানিতে হাটার উপায় নেই। গভীর জঙ্গলের এ পথে কেউ যায়নি এখনো। সরু একটি পথ উঠে গেচে পাহাড়ের দিকে। অনেকেই নীচে থেকে ভেজা শরীরে এই পথে উঠায় পথটা ভিজে থাকে। উঠার সময় সামাল দেয়ার জন্য লাঠি বা হাত দুটোরই প্রয়োজন হতে পারে। খাড়া পথটি বেয়ে ওঠার সময় হাপিঁয়ে যেতে হবেই।

৫মিনিটেরর খাড়া পথটি শেষে আবার সমতল রাস্তা। এখা থেকে পাহাড়টা বা পশ্চিমের দিকে বঙ্গোপসাগরটা দেখে নিতে পারেন। পাহাড়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ভাল লাগে অত উচুঁ থেকে সমতল এলাকা দেখতে।

এবার সামনে পাতলা কাঁদার রাস্তা। পাহাড়ের খাদের পাশ ঘেষে যাওয়া রাস্তাটিতে সাবধানে পা ফেলে চলতে হবে। সরু রাস্তার বাম পাশে অসেক নীচে ঝরণার ঝিরিপথ। দেখলেই ভয়ে গা কেপেঁ উঠে।

এই পথটা শেষে হলেই আবার পাথুরে পথে হাটা শুরু। কিছু দূর গেলেই রাস্তু দুই দিকে ভাগ হয়ে যায়।

ইংরেজী ‘ওয়াই’ অক্ষরের মত দুটি রাস্তা। একটি গেছে বান্দরকুম আরেকটি মিঠাছড়ি।

এ দুুুটি ঝরনার কোনটিতেই বিশাল পানি ছিল না যেমনটা দেখেছি মীরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝরনাতে। আজ তেমন কোন পর্যটক ও ছিল না। সাথে একজন ত্রিপুরা ছেলে ছিল সে ছবি তুলতে থাকল আর আমরা সেই অল্প পানিতেই ভিজতে থাকলাম।


ঝরনা দুটোর অত গর্জন ও নেই এ সময়। মন ভাল করতে গিয়ে ঝরনার অবস্থা দেখে উল্টো মন খারাপ হওয়ার অবস্থা।



কিভাবে যাবেন:

যারা চট্টগ্রাম থেকে যাবেন তারা নগরীর একে খান থেকে সরাসরি বাসে যেতে পারেন। এখান থেকে নয়দু্য়ার পর্যন্ত ৪০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া। নয়দুয়ার নামলেই সিজনভেদে ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে গাইড পাবেন। তবে আপনি চাইলে পানির পথটা ধরে যেতে পারেন। গাইড লাগার কথা না। বিশেষ সময়ে গেলে আপনার সামনে আরো অনেক জনকে দেখবেন যেতে। নয়দুয়ার থেকে এক কিলোমিটার পায়ে হাটার পর পাহাড়ের দেখা পাবেন। নয়দুয়ার বাজারে খাবার হিসেবে ভাতের অর্ডার দিয়ে যেতে পারেন। এছাড়া পাহাড়ের খানিক আগেই একটি দোকান আছে। চাইলে ফিরেও খেতে পারেন। ঝরণায় ভিজলে সাথে বাড়তি কাপড় ও তোয়ালে রাখা উচিত এটা কেতাবী কথা্ আমি যতবার সমুদ্রে বা ঝরনায় গোসল করি আলাদা কাপর নিয়ে যাই না। ফিরতে ফিরতে শুকিয়ে যায়!

Post a Comment

0 Comments