রোদছায়ায় সমুদ্র

চট্টগ্রামকে আলাদাভাবে ভাল লাগার কোন সুযোগ নেই। আলাদা করে ভাল লাগার জিনিসগুলো প্রায় নতুন। যার ভেতরেই জীবন আমার সেটার আবার আলাদা করে ভাল লাগার কি আছে?

চট্টগ্রামের পশ্চিম যে অংশটা পুরোটাই সমুদ্রে ঘেরা। আর পূর্বে চলে গেছে পাহাড়। এর মাঝখানে সমতল যে জাযগাটা সেখানেই গড়ে উঠেছে শহর। অবশ্য পুরো এলাকাটাও সমতল ছিল না। পাহাড় কেটে বানানো হয়েছে চট্টগ্রাম শহর।

চট্টগ্রাম বলতেই অনেকে মনে করেন কক্সবাজার নয়ত বান্দরবান অথবা রাঙামাটি। আমার কাছে চট্গ্রাম শুধু বন্দরনগরী না সমুদ্রনগরীও। আজ উত্তর হালিশহরের বড় পোল হয়ে হেটে গেছি চৌচালা বিচে। পুরো এলাকাটায় শিল্পাঞ্চল। জনবসতি খুব একটা নেই। সাগরের কাছাকাছি অনেক জমিতে ধানের চাষ হয়েছে। বেড়িবাঁধ ধরে নতুন একটি সড়ক হচ্ছে মীরসরাই ইকোনোমিক জন অবধি।

বেড়িবাঁধের পর চিংড়ির ঘের। দুই ঘেরের মাঝখানে ছোট বাঁধ ধরে যেতে হয় ঝাউবন। দুএকটা ছোটখাটো খাল আছে যেগুলো এসছে শহরের ভেতর থেকে। খালের উপর দু/তিনটা বাশেঁর তৈরি নড়বড়ে সাঁকো। তারপর অনেক বড় চর। বিকেলের রোদ তখন হেলে পড়েছে। এই রোদ এই রোদের লুকোনো আর সাদা আকাশ দেখে ইচ্ছে হলো আজ না ফিরি আর।

সমুদ্রে এই সময় ঢেউ থাকে না। পানি খুব নিরবে বয়ে যায়। অল্প অল্প করে পানি বাড়ছে। ছোট ছোট কিছু টিলার চারপাশে পানি এসে দ্বীপের মত করে তুলছে। ওদিকে দেখতে দেখতে নেমে গেল সন্ধ্যা। পরিবেশটা তখন আলো আঁধারির। ফেরার পথে কুয়াশাও উঠে আসছিল বঙ্গোপসাগর থেকে। ঝাউবনের পেরোনের পর পেছন দেখি সমুদ্রে তখন রঙেরা নিজেদের সাজিয়ে নিয়েছে। রাত যেমন করে বাড়ছে নীরবে ততটােই নীরবে সমুদ্র তখনো তার ঢেউ এগিয়ে দিচ্ছে পূর্বে। সে কি জানে? এই শান্ত সমুদ্রকেও ভালবাসি!

Post a Comment

0 Comments