সোনাপাহাড় : আয়ানের বাড়িতে সকাল

আয়ানের বাড়িতে কাল হঠাত করেই যাওয়া। আমার ভেতর যে বোধ কাজ করে এদিক ওদিক উড়ার সেই বোধ খুব দুর্বল হয়ে যায় যখন গ্রামে যাই। অন্ধকারের মধ্যে দিয়ে হাটার সময় ভেসে আসা শব্দগুলো শুনে ইচ্ছে করেই বুঝি এখনো ভয় পাই।

ভাইয়ারা কাল ঘুমোনোর পর অনেক রাতেও ঘুম আসছিল না। বাইরে বের হওয়ার দরকার ছিল কিন্তু সাহস হচ্ছিল না। তাও আবার বাড়ির সামনে বাঁশঝাড়। তাতেই সাহস সব শেষ।

রাত তখন অনেক বেড়েছে। অদ্ভুত নীরবতার ভিতরে পবিত্র এক প্রশান্তি। গ্রাম মানেই শহরের হৈ চৈ এর বাইরে গিয়ে নিজের ভেতর ডুব দেয়ার একটা জগত। জীবনের যে প্রথম আনন্দ গ্রামের আলো আঁধারে বেড়ে উঠার সেগুলো এখনো কত সজাগ হয়ে আছে।

পরেরদিন অন্ধকার ফোটার সময় ঘুম ভেঙ্গে গেল। সকাল এসেছে কুয়াশার চাদর সরিয়ে। তার উপর পাখির কিচির মিচির। এবার বেরিয়ে পরে পাতার ফাঁক গলে পরা আলো দেখলাম। মাঠেও নেমে পরলাম।

সকাল গুলো রোজ এমন হলো আমার মনে আসলে কারো প্রতি বিরক্তি আসার সুযোগ হতো না। আরেকটু সময় পেরোনের পর রোদ যখন বাড়ল ততক্ষণে উঠে পরেছে আয়ান।

ও এবার মোরগ, হাঁস, প্রজাপতি, পাখি, গরু পাখি দেখা শিখেছে। বিড়ালের পেছনেও দৌড়ানোও। ধুলায় মাখামাখিও হলো।

আমি ওর ভেতর নিজের হারানো সময় দেখলাম। এমন করেইে আমাদের বেড়ে উঠা। ইদানীং ভাবনা এলো কেন ছোট বেলার কথা লিখে রাখছি নাা। স্মৃতি যত জমছে এই সুন্দর ভালবাসার স্মৃতি গুলো তত দূরে সরছে।

আয়ানের চোখে গ্রামকে দেখে তখন ফেরার পালা। আয়ান গাড়িতে উঠার আগে একবার এমন ভাণ করল সে যাবে না।

আসলে আমার ও আসতে ইচ্ছে করে না। এমন মাটির মায়া কে এড়িয়ে যেতে পারে? বড় হতে হতে কতটা বড় হয়ে গেছি। স্বাধীনতার ভেতরেও নানান কারণে নিজের ভাল লাগা গুলোকে নিজের কাছে টেনে নিতে পারি না।

জীবন সাংবাদিকদের সেলফ সেনসরশিপের মতোই। জীবন একটা চলমান নদী। সে থামতে চায় কোথাও কোথাও গতি তাকে থামতে দেয় না। পেছনে ফেরার তো প্রশ্নই নেই।

তবুও কবির মত আবেগ জাগে। একদিন যেখানেই থামুক না কেন একেবারে আমি আমার এই প্রিয় মাটিতেই থাকতেই চাই। কেমন কেতাবী হয়ে গেল কথাটা। আসলে আমার ও কবিদের এই ধরনের কথা কেতাবী মনে হতো।

কিন্তু মানুষের ‍জাগতিক চাহিদার বাইরে যে মন আছে সে তো কখনোই শহুরে হতে চায়নি। চেয়েছে?

Post a Comment

0 Comments