নিউ মার্কেট : আমার ছোট নগর

চট্টগ্রাম শহরও তো অপরাপর শহরগুলোর মতোই মুগ্ধতার ভিতর দিয়ে পরিচিত হয়ে উঠেছে। তারপর সেই মুগ্ধতা কেটে অভ্যস্ততায় পরিণত হয়েছে উচ্চমাধ্যমিকে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ভর্তির পর।

অভ্যস্ততার সেই জীবনেও নতুন করে ভাল লাগার জায়গা তৈরি হয়েছিল চট্টগ্রাম নিউ মার্কেট ঘিরে। বার থেকে পনের সালের দিনগুলোতে জীবন কেমন বললে নিউ মার্কেট এর গল্পগুলোই আসবে।

কাল রাতে তানজিমা নক করতেই দেখা করার ইচ্ছে হলো। আমার শনিবারের ফাঁকা ‍ছুটির দিনও এত চাপের ভিতর যায় আর দু পা এগিয়ে ঘরের পাশের নিউ মার্কেট যাওয়া হয় না বহুদিন। সেই চাপের বৃত্ত থেকে বেরোতে দেখা করব বলতেই তানজিমও রাজি। মিলি আপাও আসবে জানালো।

কাজ থাকাতে কাজীর দেউড়ি মোড় নেমে অপেক্ষা করতে হলো তানজিমের জন্যে। কাজীর দেউড়ি থেকে মার্কেটের সোজা রাস্তাটায় ও অনেক গল্প জমে আছে। ঢাকার পরে চট্টগ্রাম সিটিকে বলা হচ্ছে দ্বিতীয় বৃহত্তম সিটি। কাজীর দেউড়ির থেকে সোজা ও ডানে যে রাস্তা গুলো ঢুকেছে তার ফুটপাত দেখে নির্দ্বিধায় তানজিমও আমি এই শহরকে ঢাকার চেয়ে ভাল ঘোষণা দিলাম। বলি ঢাকায় কার মন টেকে?

এনায়েতবাজার হয়ে হেটে আসতেই মত বদলালো তানজিমের। সিআরবি যাব এবার। কদমতলী থেকে দু পা ফেলতেই সিআরবি। বহুদিন পর ছায়া দুপুরের সময় বাইরে আমি। রোদের উত্তাপের সাথে দুজন ছেলে মেয়ের হেটে যাওয়ার চারপাশের মানুষের তাকানোর উত্তাপে খুব একটা ভালও লাগছিল না।

সিআরবি যেতেই দুটা ছেলেমেয়েকে দেখলাম সাইকেলে যাচ্ছে। মেয়ের চেহারা পরিচিত। আমার কলেজের বান্ধবী। বছর চারেক পর এভাবে। বেচারীর তখনো মানুষের সাথে মিশতে অনভ্যস্ত ছিল সেটা পুরোপুরি কাটেওনি। সোহেল যাওয়ার আগে সে আপনার ব্যাপারে বেশ চমকপ্রদ তথ্য জানিয়ে গেছে।

কলেজে ছেড়ে আসার পর বা আগেও সিআরবিতে তেমন আসা হয়নি। সব সময়ের এই অপরিচিতি সিআরবি নিজের মতন করে একি রুপে একি ঢঙে ব্যস্ত। বেশিরভাগই কলেজ ফাঁকি দিয়ে আসছে। তাই বিশালকাার কড়ই গাছের ছায়ার নিচে সিট গুলো ও দখল বেদখলের উপর আছে।

আমরা গেছি রেলওয়ে অফিসের নিচের সিঁড়িটায়। বহুক্ষণ কথা হলো তাও ছবি তোলার বিরতিতে। কথা বলতে বলতে ওভাবে চোখেই পরেনি চারপাশের গুমোট হয়ে আসা পরিবেশ। বাতাসের সাথে সাথে ধুলাবাড়ি বাড়তে বাড়তে একটা সময় বৃষ্টিই হবে এমন অবস্থা।

তারপর তানজিমের সাথে দ্রুত বাস ধরে নিউ মার্কেট। নিউ মার্কেটের ভেতরে দক্ষিণ পাশে যে খোলা জায়গাটা আছে সেখানে দাড়ালাম। বৃষ্টি তখন আরো বেশি গতিতে ঝরছে।

বৃষ্টির পানি ছিটকে গায়েও পরছে এক ফোঁটা। অন্ধকার তখন এমন হয়েছে আর দিন বলার ও উপায় নেই। শুধু বৃষ্টি ফোঁটার শব্দ ছাড়া কোথাও কেউ নেই যেন।

জীবনে যদি অন্য মানবিক অনুভুতির জায়গা থাকে তাহলে প্রেমকে অস্বীকার করার উপায় তো নেই। সেটাও তো একটা অনুভুতি।

বৃষ্টিতে ধুয়ে মুছে যাওয়া নিউ মার্কেট মোড় সেরকমই একটা প্রেম। এই প্রেমের বিচ্ছেদের প্রশ্ন নেই। নেই অভিযোগ।


জীবন তো চলন্ত স্মৃতি। ভালবাসার স্মৃতিগুলোকেই বাঁচিয়ে রাখতেই পারলেই বেঁচে থাকার রসদ জোগাড় হয়ে যায়।



Post a Comment

0 Comments