বাংলার পথে এতটা দূর

ডাক্তার দেখাতে যাব কলকাতা এই কথা শুনে শিমুল ভাই পারলে তখনি ব্যাগ গোছানো শুরু করেন। পরে ভাই প্লান দাড় করালেন একসাথে দিল্লি, বানারস আর মানালি ঘোরার।

কিন্তু ডাক্তার দেখানোর ঝামেলা না রাখতে আমি আগেই ঢুকে পরব ঠিক করলাম নদীয়াতে।

ভাইকে ছাড়াই চট্টগ্রাম থেকে বাস ধরে গেছি মানিকগঞ্জের উথালি বাজার অবধি। রাত একটায় যে বাসের চাকা নষ্ট হলো ফজরের আজানের পরও সেই চাকার কোন গতি করা গেল না। ওদিকে বাসে ছিল দিল্লির এক ব্যক্তি সাদিক আলি যার দুপুর বারটার ভেতর কলকাতা ঢুকা খুব জরুরী।

আমার ও অপেক্ষা করতে ভাল লাগছিলো না। দুজনেরই যাওয়ার কথা বেনোপোল তাই সিএনজি ধরে চলে গেছি ফেরীঘাটে। কয়েক কিলোমিটারের রাস্তা আমরা আগেই চলে যেতাম কিন্তু নিরাপত্তা ভীতির কারণে সাহস হয়নি। পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চাইব থাক এত রাতে গিয়ে পুলিশের হাতে কোন হয়রানির শিকার হই তার নিশ্চয়তা নেই।

যখন পৌছলাম তখন আলো ছড়িয়েছে চারদিকে। পদ্মা তীরে বিশাল জট গাড়ির। সাদিক আলীর সাথে একটা বাসে উঠে পড়লাম এই ভেবে যে দুজনেরই গন্তব্য বেনোপোল। বাসে উঠতেই মনে পড়ল এই বেনোপোলে বর্ডারে হয়রানির কথা। গতবার ঈদের পরের দিন যেতে গিয়ে দাড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে সাত ঘন্টারও বেশি।

পাশের এক যাত্রী জানালেন দর্শনা সীমান্তে যাওয়ার বাস ফেরী ঘাট থেকেই পেয়ে যাব। পরে নেমে এগিয়ে ফেরীর উপর এসে পেলাম ঝিনাইদহের বাস।

ফেরী পার হওয়ার সময় রোদ এসে পরতে শুরু করেছে নদীর পানিতে। হিমালয় থেকে আসা গঙ্গার প্রধান এই শাখা নদী বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম নদী। এক সময় পদ্মার বিশাল ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গেছে রাজা রাজবল্লভের সাম্রাজ্য তখন পদ্মার নাম হয়েছে কীর্তিনাশা।

অনেক দূরে দু একটা ছোট নৌকা তখন মাছ ধরে ফিরতে শুরু করেছে পদ্মার কোন এক গ্রামে। এই বিশাল পদ্মার বুকে আসলেই মানিক বন্দোপাধ্যয়ের পদ্মা নদীর মাঝির চরিত্র গুলোর সাথে দেখা করার চেষ্টা করি। পদ্মা ঢেউ তুলে একমনে এগিয়ে যাচ্ছে একদিকে। লোকজন বাস থেকে নেমে ফেরীর কিনারায় এসে তাকায় পদ্মায়।

কেবিনের উপরে উঠেও পদ্মা দেখার হুড়োহুড়ি। এই পদ্মার তারুণ্যে দেখার সাধ আর মেটেই না।

পদ্মা পার হতেই রাজবাড়ি জেলা। রাজবাড়ি এক সময় বাংলার দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ছিল। বাস রাজবাড়ি হয়ে মাগুরা দিয়ে ঢুকল ঝিনাইদহে। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ও বাউল সাধকের জন্ম এই মাটিতে।

ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে বাস ধরে আবার চুয়াডাঙ্গার জীবননগর হয়ে অটো ধরে দর্শনা বর্ডারে। জীবননগর নেমে এক চায়ের দোকানে ঢুকেছি মোবাইল চার্জ করতে। মাটির কলসে পানি ঠান্ডা রেখে খাওয়ার চল এদিকে এখনো রয়ে গেছে। সিঙাড়া খেতে চাইলাম কেটে পাঁচ টুকরো করে দিল। এদিকের মানুষের ভাষা নদীয়ার সাথে মিলে যায়। তখনো আমার জানা ছিল না দেশভাগ পূর্বসময়কালে এই চুয়াডাঙ্গাও ছিল অবিভক্ত নদীয়ার অংশ। স্বভাবতই রাতারাতি কাঁটাতার উঠে গেলেও তাদের ভেতর শতবছরের যে আদানপ্রদান সেটা কাঁটাতার আলাদা করে দিতে পারেনি।

উইকিপিডিয়ার ভাষ্য, সময়টা ১৬৬০ থেকে ১৬৬৫’র দিকে। এ অঞ্চল তখন গভীর বন-জঙ্গলে পরিপূর্ণ। আজকের মৃত ভৈরব নদী তখন জীবিত ছিল। বাঘের ও বাস ছিল এদিকটাতে। সেই সময়ে এখানে আস্তানা গড়ে তোলে জীবন খাঁ নামের এক ডাকাত। তার কিছুকাল পরে ক্ষমতায় আসে ব্রিটিশরা। ব্রিটিশরা আসার পর এই ডাকাতই সাধারণের চোখে হয়ে উঠে নায়ক। পরে তার নামেই এই এলাকার নাম হয়ে যায় জীবননগর।

জীবননগর থেকে আবার অটো ধরে দর্শনা বাজারে। বাজারে নেমে আলাপ হলো এক ফল দোকানীর সাথে। তার নানার বাড়ি নদীয়ার তেহট্টতে। জানালো, এদিকটায় চোরাই পথে লোকজন যায় আসে নানান মালামালও আসে।

সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর গল্পগুলো এরকমই। কারো মায়ের বাড়ি এখানে তো বাবার বাড়ি ওখানে। এরকম জেলাগুলোতেই দেশভাগের হাহাকার থাকা মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। যারা দেখতে পায় তাদের পরিবার একটা আন্তর্জাতিক পরিবার হয়ে উঠেছে রাতারাতি। রাতারাতি ভারতীয় থেকে পাকিস্তানী হয়ে আবার বাংলাদেশী হয়ে যাওয়ার যে পরিচয় সেটা নিয়ে আমরা আবার গর্ব করি এত বেদনার উপর দাড়িয়ে!

দর্শনা বাজার থেকে মোটর চালিত ভ্যানে করে আধ ঘন্টার পথ শেষে চেকপোস্ট। যাতায়াতের খুব একটা সুবিধে নেই এদিকে। ভ্যান গাড়ি ছাড়া তেমন কোন বাহনই নেই। বাংলাদেশর রাজধানী শহর ঢাকা আর এই সীমান্তবর্তী দর্শনার উন্নয়ন পার্থক্য এক আকাশ বৈষম্য ছাড়া কিছুই না।

অথচ এই দর্শনাতেই ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর ব্রিটিশরা এ অঞ্চলে প্রথম রেলপথ স্থাপন করে। ১৮৭১ সালে ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ের কলকাতা-গোয়ালন্দ ঘাট রেলপথ খোলা হলে দর্শনা স্টেশনটি চালু হয়। এই দর্শনাই হলো বাংলাদেশের প্রথম রেলস্টেশন। এই স্টেশন হয়ে অবিভক্ত ভারতে ট্রেন চলাচল করত কলকাতা, গোয়ালন্দ, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে।



দর্শনা বাজারের অ্ল্প দূরেই সোনালী ব্যাংক। ভ্রমণ কর দিতে গেছি তখন দুপুর গড়িয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তা পঞ্চাশ টাকা বেশি চেয়ে বসলেন। কেন এই বাড়তি টাকা প্রশ্ন করার পর জানতে চাইলেন পড়ি কোথায়। বললেন, দুপুরে খাবার সময় হয়ে গেছে এরপরও করে দিচ্ছেন সেই জন্যে টাকা চেয়েছেন। আপনি খেয়ে আসুন অপেক্ষা করব বলতেই বললেন যান টাকা ওটা দিতে হবে না।

নির্জন গ্রামের ভেতর দিয়ে চলে গেছে বর্ডারের পথ। ভ্যান চালকের সাথে কথা হলো। উনারও আত্মীয় আছে কৃষ্ণনগরে। প্রায়ই যান। এর আগে কেরেলা, বীরভূম গিয়েও কাজ করে এসছেন। সেটা বলতে খুব একটা উদ্বিগ্নও মনে হলো না। সীমান্ত পাড়ের জীবনে কাঁটাতারের পরও এই যাতায়াত বলে দিচ্ছে তাদের ভেতর যে শেকড়ের টানা সেটা অত সহজে উপড়ে ফেলা যায় না।

বর্ডার এর পাশ দিয়েই বাংলাদেশে ঢুকেছে ইছামতী নদী। ইছামতী যে জেলা থেকে এসছে সেটার নাম নদীয়া। আর এই চুয়াডাঙ্গাও এক সময় অবিভক্ত নদীয়ার অংশ ছিল। দেশভাগের কবলে পড়ে আলাদা হয়ে চুয়াডাঙ্গা নিজেই জেলা হয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে চুয়াডাঙ্গা ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী।

হরিদাসপুরে যে চেকপোস্ট সেটার তুলনায় দর্শনা-গেদে বর্ডারে সুযোগসুবিধা খুবই কম। লোকজন না থাকাতে একরকম ছুটি ছুটি পরিবেশ। দেশত্যাগের সিল নিয়ে রেল লাইনের পাশ ঘেঁষে একটা রোড চলে গেছে এক কিলোমিটার মতন। বাঁ পাশে লোহার বেড়ায় লতা জাতীয় এক ধরনের গাছ পুরো বেড়াকে ঢেকে দিয়েছে আরেক পাশে ক্ষেত। এই না মানুষি জমিনে হাটতেই হাটতেই বৃষ্টি ভিজিয়ে দিল চারপাশ। ভারতীয় কাস্টমসে পেরিয়ে সিল নিতে যেতে হলো গেদে স্টেশন। নিজে একা করব বলে কোন দালালের সাথে কথা না বললেও ভারতীয় কাস্টমস অফিসারই জানতে চাইলেন, আমি কোন দালালের খপ্পরে পড়েছি?

পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল গেদে স্টেশনের কাস্টমস দফতর দালাল শ্রেণীর স্বর্গরাজ্য। গেদে থেকে ট্রেন ধরে বহুদিন পর কল্যাণী।

ভারতীয় জীবনে ট্রেনের বিশাল ভূমিকায় প্রতিবার মুগ্ধ হই। এবারও পথ চলতে গিয়ে কথা হলো কাছেরই এক স্টেশনের ছেলের সাথে। বাংলাদেশ ও তার রাজনীতি নিয়ে কথা হলো। ওর ভূগোলে জেনেছে বাংলাদেশ নামে একটা দেশ আছে। এর বাইরে খুব বেশি কিছু ধারণা নেই। তবে এটা প্রশ্ন করতে ভুল করেনি আমি পাসপোর্ট করে এসছি কিনা। এই পশ্চিমবাংলায় এসে বারবার একই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতে আমি বিব্রত হওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।

কল্যাণী এসে দুটো ম্যাপ কিনে নিলাম। ভারতের ও পশ্চিমবঙ্গের। কল্যাণী গোলপার্কের পর এক মেসে ছিলাম। এখানেও বাংলাদেশের রাজনীতি প্রসঙ্গ উঠে এলো।

বিশেষ করে চলমান ছাত্র আন্দোলনে সরকারের দমন পীড়ন। লক্ষ্যণীয় ব্যাপার বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের আলাপের বাইরে গিয়ে একটা নতুন আলোচনা ্উঠে এসছে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের ব্যাপারে ও তার সমসাময়িক তুলনার কথাও উঠল পশ্চিমবঙ্গের সাথে। তবে এর ভিতর বিদঘুটে ব্যাপার ছিলে এটা যে যারা এই দমনপীড়নের বিপক্ষে তাদের অধিকাংশের কাছেই স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকানীন সময়ের দন্ডপ্রাপ্ত অপরাধীরা নির্দোষ! মূলত পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি মুসলমান সমাজের কাছে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর একাত্তর সালে চলাকালীন ভূমিকায় তারা খুব একটা দোষ খুঁজে পান না। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয় আসামের শিলচর থেকেও এক ভাই জানতে চেয়েছেন সাঈদী আসলেই অপরাধী কিনা। এরপর আলোচনা বেশিদূর আগাবার জো ছিল না।

সাম্প্রদায়িক হামলার ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে যে ধারণা তৈরি করা হয় বাংলাদেশে হিন্দু অত্যাচার মানেই ইসলামবাদীরা হামলা করছে সেই ধারণা অনেকটা বদলেছে এখানে। হিন্দু রাজনীতি বাদ দিয়ে বাংলাদেশকে জানার যে প্রচেষ্টা গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও শাসক দলের দমনপীড়নের নিরিখে তখন আশাবাদী না হয়ে উপায় নেই। আমরা নিজেদের ভেতরকার পক্ষপাতিত্বকে বাদ দিয়ে দুদেশকে জেনে ভালবাসলে ঘৃণার চাষ করে দমিয়ে রাখা রাজনীতিবিদেরা একদিন না খেয়ে মরবে।

নদীয়া জেলার সবচেয়ে সুন্দর যে এলাকা সেটা হলো কল্যাণী। এই কল্যাণীর সাইকেলের জীবনের লোভে আমি আরো বহুবার এখানে আসতে চাই।

নদীয়া জেলার আগেকার নাম ছিল নবদ্বীপ। অবশ্য এখন নবদ্বীপ নামে আলাদা একটা এলাকা আছে। দেশভাগের সময় নদীয়া থেকে বিভক্ত কুষ্টিয়ার নাম বাংলাদেশে রাখা হয় নদীয়া আর ভারত অংশের নদীয়ার নাম রাখা হয় নবদ্বীপ। পরে সেই নাম বাতিল করা হয়। মুসলিম আক্রমণ পূর্ব নদীয়া ছিল বাংলার রাজধানী। ১৭৮৭ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজত্বকালে জেলা হিসেবে নদিয়ার আত্মপ্রকাশ। তখন হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কিছু অংশ নদীয়ার অংশ ছিল। তখন অবিভক্ত নদিয়া জেলা কৃষ্ণনগর সদর, রাণাঘাট, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা এই পাঁচটি মহকুমায় বিভক্ত ছিল। দেশভাগের পরে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা এই তিনটি মহকুমা বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়।

গৌড়ীয় বৈষ্ণব আন্দোলনের প্রাণপুরুষ চৈতন্য মহাপ্রভুর স্মৃতিবিজড়িত এই নামকরণ কান্তিচন্দ্র রাঢ়ী একটি কিংবদন্তির উল্লেখ করেছেন। তার মতে,ভাগীরথী তীরস্থ নবসৃস্ট চরভূমিতে এক তান্ত্রিক প্রতিদিন সন্ধ্যায় ন’টি দিয়া(প্রদীপ) জ্বালিয়ে তন্ত্র-সাধানা করতেন। দূর থেকে দেখে লোকে এই দ্বীপটিকে ন’দিয়ার চর বলত। আর সেই থেকেই নাকি লোকমুখে ‘নদিয়া’ নামের প্রচলন করে।

ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় নদিয়া হিন্দু ধর্মালম্বিদের জন্য একটি তীর্থস্থান। রাজা বল্লাল সেন নদিয়া প্রতিষ্ঠা করেন। প্রাচীন বাংলার হিন্দু রাজারা গৌড়ের পাশাপাশি নদিয়াতেও অবস্থান করতেন। রাজা বল্লাল সেন তার শাসনামলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভাগীরথী নদীতে তীর্থস্নান করার উদ্দেশ্যে আসতেন। তিনি এই নদীর তীরে পঞ্চরত্ন নামে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। রামায়নের প্রাচীন অনুবাদক কবি কৃত্তিবাস ওঝা, ভারতীয় উপমহাদেশের ঊনবিংশ শতাব্দীয় অন্যতম পণ্ডিত ব্যক্তিত্ব যিনি বাংলার নবজাগরণের অন্যতম অগ্রদূত মদনমোহন তর্কালঙ্কার (১৮১৭-১৮৫৮), নাট্যকার ও সাহিত্যিক দীনবন্ধু মিত্র সবাই জন্মেছের নদীর জেলা নদীয়াতে।

পরদিন ডাক্তার দেখাতে গেছি কৃষ্ণনগর। এখানে জন্মেছিলেন দিজেন্দ্রলাল রায় যার লেখা ‘ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা’ আমাদের পাঠ্য ছিল। উনি বঙ্গবঙ্গের ঠিক পরপর মারা গেছেন। উনার সেই বসুন্ধরা আজ ধর্মের তীরে টুকরো হয়ে গেছে।

কৃষ্ণনগর শহরের সাথে আমার পরিচয় বহু আগে থেকে। একটা ছোটখাটো শহর যেখানে লোকজন হৈ চৈ করে দিন শেষ করছে। ডাক্তার দেখানো শেষেই পরদিন টিকেট করতে গেছি কৃষ্ণনগর স্টেশনে। ততকাল টিকেটের লাইনে দাড়িয়েই শিলিগুড়ির টিকেট পেয়ে গেছি। ওদিকে শিমুল ভাই ততক্ষণে ঢুকে পরেছেন মেঘালয় তাই আমার বানারস দেখার ইচ্ছে বাদই দিতে হলো।

টিকেটের জন্যে এজেন্টের কাছে না যাওয়ার চেয়ে আগের দিন সকাল এগারটায় ফর্ম পূরণ করে ভিসা ডকুমেন্ট দিয়ে একটা টিকেট নিজে করে নেয়াই সহজ মনে হলো। পরদিন বিকেলের ট্রেন ছিল নবদ্বীপ থেকে।

নবদ্বীপ চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্য বিখ্যাত। বিদ্যালাভের পীঠস্থান হিসেবে এর খ্যাতি ছিল। তাই একে বলা হতো বাংলার অক্সফোর্ড।

মিনহাজউদ্দিন সিরাজির গ্রন্থে নবদ্বীপকে নওদিয়ার বলা হয়েছে। নওদিয়ার শব্দে নূতন দেশ।" নূতন দেশ বলতে এখানে গঙ্গাবিধৌত পলিসঞ্জাত নুতন দ্বীপকেই বোঝান হয়েছে।

নবদ্বীপ থেকে ট্রেন ধরেছি বিকেলে। পরের স্টেশন পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া। কাটোয়া ভাগীরথী নদী ও অজয় নদের তীরবর্তী একটি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থান। এই শহরকে বাংলা সুবাহর রাজধানী মুর্শিদাবাদের প্রবেশপথ বলে মানা হতো। বাংলার নবাব আলীবর্দী খানের আমলে নাগপুরের মারাঠা রাজা প্রথম রঘুজী ভোঁসলের মারাঠা সৈন্যরা (বর্গী) এ অঞ্চলে লুটপাট শুরু করে । এরপর নবাব কাটোয়ার প্রথম যুদ্ধে হারিয়ে বিতাড়িত করে। দ্বিতীয়বার হামলা চালালে নবাব তাদের প্রতিহত করলে মারাঠারা বাংলা থেকে বিতাড়িত হয়ে যায়।

কাটোয়ার তৃতীয় যুদ্ধে ব্রিটিশ সৈন্য মীর কাসেমের সৈন্যদলের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং মীর কাসিমের পরাজয় ঘটায়।

মাঝখানে যাওয়া আরো কয়েকটা স্টেশনে নাম জঙ্গিপুর, নিমতিতা। এই নিমতিতা স্টেশনের পরেই ফারাক্কা বাঁধ। এখানেই শেষ হয়েছে গঙ্গার আর বাংলাদেশে ঢুকে পদ্মার শুরু। তারপর ধুলিয়ান গঙ্গা, নিউ ফারাক্কা জংশন এর পরেই মালদা টাউন স্টেশন। মালদা জেলা এক সময় অভিবক্তত দিনাজপুর এবং পরবর্তীতে রাজশাহীর অর্ন্তভুক্ত ছিল পরবর্তীতে ভারতের অংশ হয়।

এরপর সামসি, ভালুকা, হরিশচন্দ্রপুর, কুমেদপুর, এরপর বিহারের আজমনগর , কাটিহার জেলার বারসৌই হয়ে উত্তর দিনাজপুর জেলার ডালখোলা ও আলুয়াবাড়ী রোড জংশন তারপরই নিউ জলপাইগুড়ি জংশন। নবদ্বীপ থেকে নিউ জলাপাইগুড়ি অবধি বাংলাদেশের পাশের জেলা চুয়াডা্ঙ্গা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী।

সন্ধ্যা নামার আগ অবধি দু পাশে দেখলাম। দু পাশে মাঠ আর মাঠ। বাংলার অপরাপর জেলাগুলোর মতই সেই একই ছবি। চাষবাষের জীবন সবার।

প্রত্যেক স্টেশনে অনেক হকার উঠে নানান খাবার নিয়ে। কথা হয় তাদের সাথে। তাদের বাংলাটা শুনি কান পেতে। একটু ভিন্ন ঢঙের উচ্চারণ ছাড়া খুব বেশি ফারাক নেই।

যাওয়ার সময় রমেশচন্দ্র মজুমদারের বাংলা দেশের ইতিহাস বইটা নিয়েছিলাম। ট্রেনে শুয়ে সেটাই পড়া শুরু করি।

মধ্য রাতে ট্রেন ঢুকল নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে। ভারতীয় ট্রেন স্টেশনগুলোর পরিষেবা খুব উন্নত। বারবার দেশের স্টেশনের কথা মনে পড়ে। নারী ও পুরুষের জন্যে আলাদা বাথরুমের ব্যবস্থা কোনটাই পরিত্যক্ত নয় আবার টাকা দেয়ার ব্যাপারও নেই। মুখ ধুয়ার জন্যে কিংবা পানি নেয়ার জন্যেও ব্যবস্থা আছে।

ওখানে অপেক্ষা করতে করতে কথা হলো উড়িষ্যার এক ছেলের সাথে। এসছে দার্জিলিং বেড়াতে। বাংলাদেশ বলতে চেনে সাকিব আল হাসান ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আমার কাছে বাংলাদেশের টাকা দেখতে চেয়ে টাকায় বঙ্গবন্ধুর ছবি দেখেই বলল লিডার তা না আপকা? আমাদের জাতীয় জীবনের নায়ক বঙ্গবন্ধুকে উড়িষ্যার কেউ জানে দেখে ভাল লাগায় মন ভরে গেল।

ও চলে যাওয়ার পর গুজরাটের এক লোকের সাথে দেখা হলো যে সৈনিক হিসেবে ভারতীয় আর্মিতে যুক্ত। ভারত পাকিস্তান সম্প্পর্ক ও নানান বিষয় নিয়ে কথা হলো। ভারতের প্রতি পাকিস্তান আর্মির যে নীতি তার বাইরে ওর ওখানের সাধরণের প্রতি কোন ক্ষোভ নেই। বলল এত বছরের সৈনিক জীবনে দেশটা প্রায় দেখা হয়ে গেছে। আর বাকীটা দেখার সুযোগ হলো না রাজনীতির নোংরামোর কারণে।

আলো হওয়ার পর চলে গেলাম স্টেশনের বাইরে বাসস্ট্যান্ডে। উদ্দেশ্য ছিল শিলিগুড়ি শহর থেকে ব্যাগ কেনা ও এসে চ্যাংরাবাান্ধা হয়ে বাংলাদেশ ঢুকে যাওয়া। গিয়ে দেখি দার্জিলিং, সিকিম বলে ডাকছে জিপগুলো। বাংলাদেশ যাবার চিন্তা বাদ দিয়ে জিপে চড়লাম।

শেয়ারিং এই জিপ থাকার কারণে গলাকাটা ভাড়ার চাপ নেই। আমি তখন পাহাড় দেখার কথা ভেবে অস্থির।

মহানন্দা নদীর পশ্চিমের শহর শিলিগুড়ি। এটাকে বলা হয় ভারতের উত্তর পূর্বের গেটওয়ে। শহরের উপর দিয়ে অল্প ্ঘুরে জিপ উঠে পরল পাহাড়ে। যত উঁচুতে উঠছি নিচে মেঘের খেলা। রাস্তার দু ধারে অনেক জায়গাতে পাহাড় থেকে ঝর্ণার পানি নামছে। সমতল না হলেও কায়দা করে বানানো পাহাড়ের পাশে বাড়িগুলো মিলে ছোট ছোট সব গ্রাম। বাড়ির আঙিনায় ঝুলছে নান রকম ফুল গাছ। ঘণ্টা দেড়েক যাবার পর কুয়াশার জন্যে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলল জিপ।

অনেকটা উঁচুতে উঠার পর ভয়ও হলো। গাড়িতে গোর্খা ছিল বেশ কজন। আসাম ইস্যুতে তারা ক্ষুদ্ধ বেশ এবং অভিযোগ মমতা পশ্চিমঙ্গকে বাংলাদেশ বানাতে চান। নিজেদের গোর্খাল্যান্ডের ব্যাপারেও বেশ সোচ্চার সবাই। তাদের মতে, পূর্বে জলপাইগুড়ি হয়ে উত্তরে মালদহ জেলার সীমান্ত ্আর দক্ষিণে কালিম্পং জেলা ও সিকিম থেকে পশ্চিমে নেপালের সীমান্ত অবধি পুরোটাই গোর্খাল্যান্ড কোনভাবেই বাংলার অংশ নয়।

রমেশচন্দ্র মজুমদার বাংলা দেশের ইতিহাস বইয়ে বলেছেন, যে স্থানের অধিবাসীরা তার অধিক সংখ্যাক লোক সাধারণত বাংলা ভাষায় কথাবার্তা বলে, তাহাই বাংলাদেশ বলিয়া গ্রহণ করা সমীচীন।

এই সংজ্ঞা অনুসারে বাংলার উত্তর সীমায় হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত কয়েকটি পার্বত্য জনপদ বাংলার বাহিরে পড়ে। কিন্তু বর্তমান কালের বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামের অর্ন্তগত কাছাড়, গোয়ালপাড়া, বিহারের অন্তর্গত পূর্ণিয়া, সিংহভূম ও সাঁওতাল পরগণার কতকাংশ এবং ত্রিপুরা বাংলার অংশ বলিয়া গ্রহণ করিতে হবে।

রাজনৈতিকভাবে কে কার অধীন আছে তার অধীনেই যদি কোন ভূখন্ড বাংলা নাম অর্জন করে বসে তাহলে সেটা একপ্রকার জোরজবস্তি হয়ে গেল না? ব্রিটিশদের জুড়ে দেয়া দার্জিলিং কি করে বাংলার ভূখন্ড হতে পারে সে বিষয়ে আমার জানার আছে। ঠিক ওরকম করেই রাতারাতি পূর্ববঙ্গের মাটিকে বলা হয়েছিল পাকিস্তান।

শিলিগুড়ি থেকে ছেড়ে আসা জিপ মোটামুটি তিন ঘণ্টার পর গিয়ে থামল বাজারে। আমি ছাড়া কোন বাঙালি নেই বলেই ধরে নিলাম। শীতের জামা পরে লোকজন ঘুরছে। ক্ষাণিক গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু তার ভেতরেও লোকজনের ভেতরে উৎসব উৎসব ব্যাপার কাজ করছে।

ইসলামিয়া হোটেলে দুপুরে খেয়ে মসজিদের পাশেই একটা হোটেলে উঠে পরলাম। লখনৌ, পাটনা থেকে আসা কজন দর্জির সাথে দেশভাগ, ধর্ম নিয়ে কথা হলো। তাদের অনেকেই এখানে জীবনের অর্ধেক সময় কাটিয়ে দিলেন। কেন নিজের শহর ছেড়ে এখানে? উত্তরে বললেন এখানে একটু শান্তি আছে। শান্তির জন্যেই থেকে যাওয়া!

ভারতের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করল যে আসামের নাগরিকত্ব ইস্যু সেটা নিয়ে বিহারের এই মুসলিমরা গোর্খাদের বিপরীত অবস্থানে। তারা বলছেন, ওরা বাংলাদেশী না। বিজেপির এই সাম্প্রদায়িক খেলার ফল এসব।

বিকেলটা ঘুরতে বের হয়ে দেখি তখনো কুয়াশা। সামনে কিছুই দেখার উপায় নেই। মার্কেট গুলোতে ঘুরলাম। খুব বেশি না হলেও যতটুকু শীত ছিল তাতে বাইরে ঘোরার মত আর পরিবেশ ছিল না তার উপর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি চলছে দিনভর।। ঘুমিয়ে বাকী সময় কাটিয়ে সকাল হতে বেরিয়ে পড়লাম।

জিপ ধরে নামলাম শিলিগুড়ি জংশন। সুকান্ত দাদা এলেন। তারপর ্ আলিপুরদুয়ারের বাসে তুলে দিলেন। জলপাইগুড়ি জেলা হয়ে তিস্তা নদী ছাড়িয়ে পৌছলাম আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটায়। জলপাইগুড়ির পাশেই আমাদের পঞ্চগড় জেলা।

ফালাকাটা নেমে শ্বাশ্বতিদির সাথে দেখা হলো। ওর বাবা মা আমার দেশের দুটো জেলার। স্বাতী দির সাথেই বেশি কথা হলো দেশ নিয়ে।

এরপর ফালাকাটা থেকে বাসে ময়নাগুড়ি। ফের বাস ধরে ময়নাগুড়ি থেকে চ্যাংরাবান্ধা। জায়গাটা পড়েছে কোচবিহারে। তিস্তা, জলঢাকা, তোর্সা, কালজানি, রায়ডাক ও গদাধর এই নদীগুলো রংপুর বিভাগ দিয়ে ঢুকে পরেছে বাংলাদেশে। এরপর মিলিত হয়েছে ব্রহ্মপুত্রের সাথে।

এই চেকপোস্টেও দালালের ছড়াছড়ি। দালাল ধরিনি যাতে টাকা দিতে না হয় কাস্টমস কর্মকর্তারাই টাকা চেয়ে বসলেন। যে মেয়ে খাতায় বিবরণ লিখছিলো তাকে টাকা না দিয়ে বাঁচা গেলেও পুলিশকে দিতেই হলো ।

এরপর বাস কাউন্টারে এসে শুনি ঢাকার কোন বাসই নেই। ট্রেন যেটা ছিল ছয়টার আগেই ছেড়েছে বুড়িমারী। লোকজন জানালো এক এম্বুলেন্স ভাড়া করা ও দ্বিতীয় হোটেলে থেকে যাওয়া ছাড়া বিকল্প কিছুই করার নেই।

সামনে এগিয়ে স্টেশনে আসতে হলো মোটর চালিত ভ্যানে করে। রাস্তা এত বিশাল খানাখন্দকে ভরা কিছু গর্তে মাছ চাষ শুরু করে দেয়া যাবে। এই পথেই চলছে ভারত থেকে আনা পণ্যবাহী ট্রাক। ঠিক ওই পাড়েও কোচ বিহারে এভাবে পণ্য আনা নেয়ার যে রাস্তা সেটার কোথাও খানাখন্দক নেই বরং জাতীয় মহাসড়কের মত মসৃণ।

সন্ধ্যা শেষ হতেই রাস্তায় মোটর ভ্যান ও কমতে লাগল সেই সাথে রাস্তায় লোকজনও কমে গেল। আমি হোটেল খুঁজতে বেরিয়ে দুটো হোটেলে গিয়ে দেখি সেখানে কারেন্ট আছে কিন্তু ফিউজ নেই ফলে আলো নেই বললেই চলে। তৃতীয় হোটেলেও একি অবস্থা।

সেটাতেই রুম নিয়ে উপরে উঠতে উঠতে এক ছেলে কথা বলতে শুরু করল। ওর পণ্যবাহী ট্রাক ভারতে ঢুকেছে তাই কদিন এখানেই থাকবে। চাচা সহ সাথে তার। বাড়ি নাটোর।

তিন তলায় আমরা উঠলাম মোমবাতি নিয়ে। এক বাচ্চা রুম দেখাচ্ছিল। ওই ছেলেও তার চাচা তাদের রুমে না ঢুকে এসে পরল আমার রুমে যে তারা আমার সাথে রাতে থাকতে চায়। গল্প করতে চায়।

অন্ধকার রুমে এভাবে কি করে থাকা যায় না যায় ভেবে চলছি। হোটেলে যে ছেলেটা কাজ করে ও ডেকে জানতে চাইলো ওদের চিনি কিনা। তারপর ম্যানেজারকে জানানোর পর তিনি ডেকে বকালেন এক দফা। এক টুকুরো মোমের আলোয় হোটেলের নিচের রুমে এই বকার শব্দও আমার কাছে ভয়ের ঠেকছিল।

পরে রুম বদলে আমাকে দুই তলায় দেয়ার সময় সেই পিচ্চি বলে গেল যত যাই হোক আমার গলার স্বর শুনলেই দরজা খুলবেন নয়ত কেউ দরজা ধাক্কালে খুলবেন না।

আমি খেয়ে এসে দরজা বন্ধ করে পুরো অন্ধকার রুমে জেগে বসে ছিলাম। আলো তো নেই সাথে ফ্যান ও না। গরমে কাহিল হয়ে গেছি। শেষ রাতে এসে বৃষ্টি নামল তখন একটু ঘুমোলাম। সকালের আলো হতেই বেরিয়ে গেছি বুড়িমারী স্টেশন । ওখান থেকে ট্রেন ধরে লালমনিরহাট।

এখানে জনজীবন খুবই ধীরগতির। স্টেশনে খুব একটা মানুষের ভীড় নেই। গঞ্জে যাবার তাড়া নেই। বর্ডারের এ পাড় ও পাড়ের মানুষের জীবনের প্রধানতম ফারাক এই যোগাযোগ ব্যবস্থায়। পশ্চিমবাংলায় ট্রেনকে ঘিরে জনজীবনে যে অর্থনৈতিক প্রভাব আছে তার ছিঁটেফোঁটাও এখানে নেই। এই এক জায়গাতে আমি ভারতীয় আর বাংলাদেশী ফারাক উপলদ্ধি করে দুই বাংলার ভেতর। এর বাইরেও বলা যায় সীমান্তবর্তী ওই বাংলার জেলা গুলোর মানুষের সিনেমা দেখার সহজলভ্যতা তার বিপরীতে এদিকে চরম অর্থনৈতিক দূরবস্থা। সেই বাস্তবতায় দাড়িয়ে চিন্তায় মেধায় মননে বিশাল ফারাক গড়ে উঠে।

খুব ধীরে চলে সেই ট্রেন এলো লালমনিরহাট। সাথে সাথেই লালমনিরহাট এক্সপ্রেস পেয়ে গেছি। রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, নাটোর, সিরাগগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর হয়ে ট্রেন ঢুকল ঢাকায়।

এই পুরো পথেই খাবার নিয়ে কেউ ট্রেনে উঠেনি। যারা্ উঠেছে ওই চকলেট আর চানাচুর নিয়ে। বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে কিছু মাংস বিক্রি করছিলো যার দাম আকাশচুম্বী। সকাল থেকে সেই একই বাসি খাবার নিয়ে রাতভর ঘুরঘুর করল রেলওয়ের কর্মচারীরা।

এই যে রাষ্ট্র্রীয় একটা ট্রেনে লোকজনের সস্তায় দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা না থাকার পরও এত দাম দিয়ে খাবার বিক্রি করা ও না খেয়ে চুপ মেরে থাকার যে জীবন এটাই বাংলাদেশী জীবন।


Post a Comment

0 Comments