আহা সোনাপাহাড়!

সোনাপাহাড় কেন ভালবাসি?

গ্রামে যাই না বছর দুয়েক। গ্রাম বলতে অবশ্য নিজের গ্রামই বুঝি বলেই এই বছর দুয়েকের কথা আসে। সোনাপাহাড় অবশ্য দালিলিক অর্থে নিজের গ্রাম না হলেও আমার দেখা শৈশবের সেই গ্রামের পুরোটাই ধরে রেখেছে।

বহুদিন পর ভাইয়া আসায় জোরারগঞ্জ আসা। তখন সবে সন্ধ্যা নেমেছে। শীত জাঁকিয়ে বসবে ভেবে সোয়েটার নেয়া হলেও খুব একটা কাজে আসেনি। ছুঁটি খা জামে মসজিদের সামনে থেকে ভেতরের দিকে হাটতে হাটতে আকাশের দিকে চোখ গেল। শহরে থাকতে থাকতে আকাশে তারা থাকার কথাই ভুলে গেছি।

চাঁদের আলোও তো অপরিচিত সাথে প্রকৃতির নিঃস্তব্ধতাও। রাস্তার দু পাশে ধানক্ষেতে ছাড়িয়ে বাড়িগুলোতে ততক্ষণে অনেক রাত নেমেছে। ঘন গাছপালা ঘেরা জায়গাগুলো দেখে অবশ্য আমার পুরোনো দিনের প্রেমের কথা মনে পড়লো। ওই ফোনের প্রেমে প্রবেশ করার যুগে এরকম শীতের দিনে প্রেমালাপের দিনগুলো অতীত হয়েছে আজ কতদিন।

পরের সকালে অবশ্য ঘুম থেকে উঠতে দেরী হলো। দেখতে দেখতে কুয়াশা মিলিয়ে গেছে। দুপুরের দিকে ভিসা শেষ হওয়ার আগেই ওই পথ ধরে ফেরার পালা। পেকে যাওয়া ধান কাটায় ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। আমি আর ওরকম ব্যস্ত হতে পারলাম কই।

একদিন ফ্রি হলে এই গ্রামের মায়ায় গাছের ছায়ায় চলে আসব এসব ডিগ্রী জোগাড়ের ফকিন্নিপনার জীবন থেকে। শহুরে জীবন ছেড়ে লুঙ্গি-গেঞ্জির জীবনে ফিরে আসার এই সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করি না করি আমি গ্রাম ভালবাসি। আহা সোনাপাহাড়!


Post a Comment

0 Comments