পাহাড় ও দ্বীপের দূরত্বে জীবন

আগে এমনটা হয়নি। ঘুরতে গেছি এসে লিখতে বসে গেছি। লোকজনকে জানানোর জন্যেও হয়তো লিখেছি। মাঝখানে কি এমন হলো কে জানে। ঘুরে আসার ছয় সাত মাস পরও লিখা হয়নি। দোষটা দুই বা ততোধিক পক্ষের উপর চাপিয়ে লিখাটা একেবারে না লিখাই যায়। কিন্তু গত আট দশ ঘণ্টা টানা ফেসবুক্র স্ক্রলিং করার চেয়ে লিখাটা শেষ করাই এখন প্রধান কাজ মনে হচ্ছে। মনের কথা না শোনার মত জোর আমার নেই।

প্রবারণা পূ্র্ণিমা দেখার ওরকম ইচ্ছে কখনো ছিল না। আকাশ ভাই বলার পরও যে প্রবারণা পূর্ণিমা দেখতেই যাব বলে সেদিন রাজি হয়েছি তেমনটা না। ভাই বলল চলো কোথাও যাই আমিও রাজি।



রাঙামাটি না বান্দরবান এসব খবর নিতে নিতে পরে ঠিক হলো গেলে বান্দরবানই যাব। এর মধ্যেই দক্ষিণাঞ্চলেও শীতের আঁচ লেগেছে। ভোর বেলা না উঠলে অবশ্য সেটা টের পাওয়া যায় না।



অত সকালে মার আর উঠা হয় না। আমি ডেকে তুলতে হলো ভাত খাবো বলে। এরকম কিছু সময় থাকে আমি ভবিষ্যতের কথা ভাবি। এই যেমন মার এরকম ভাত খেতে দেয়ার সময়টা যদি অনন্তকাল বাঁধাই করে রাখা যেত। কিন্তু সে সুযোগ জীবন তো দিবে না। ভাবনা সরিয়ে কাপড় গোছানো শেষে বের হলাম।

শীত শীত ভাবটা ততক্ষণে শেষ। কুয়াশাও তেমন নেই। ষোলশহর যাওয়ার পর দেখা আকাশ ভাইয়ার সাথে। বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল যেতে যেতে রোদও তার তেজ ছড়িয়ে দিয়েছে।

বান্দরবান শব্দটাই থেকে মনকে এতটাই দূরে রেখেছিলাম যে ধারণাই ছিল না দুশো টাকারও কমে বান্দরবান যাওয়া যাবে। এই ভোর বেলা অবাক করে দেয়ার জন্যে ধন্যবাদ দেয়ার উপযুক্ত কাউকে খুঁজে না পেয়ে অগ্যতা বাসে চড়ে ঘুমানোর একটা চেষ্টা করলাম।

নতুন কোথাও যাওয়ার আগের রাতে সকাল উঠতে না পারার ভয় থেকেই রাত জাগা। ধীরে ধীরে বাস যাত্রার সাথে এই ঘুমের সম্পর্ক।



ঘুম ভাঙার পর সড়কের নাম ফলক চোখে পড়ল। বান্দরবান জেলা শুরু হয়েছে। চোখ কচলে দু’ পাশ আরো বেশি অবাক হয়ে দেখলাম। প্রথম দেখাতেই মনে হলো রুপকথার রাজ্য। আনন্দে আকাশ ভাইকেই বললাম যেন কোন উপন্যাসের ভিতর দিয়ে যাচ্ছি।

চট্টগ্রাম জেলার পাহাড়ের বাইরে কোন পাহাড় দেখা হয়ে থাকলে সেটা দার্জিলিংয়ে। কিন্তু এই বান্দরবান জেলার শুরু থেকেই দু পাশে যেভাবে পাহাড়ের ভেতর দিয়ে রাস্তা গেছে তাতে নতুন করে পাহাড়কে জানার শুরু।

ছোট বড় সব পাহাড়ের মাঝখানে তৈরি করা এই রাস্তায় মধ্য দুপুরে চলছে আলো ছায়ার খেলা। সর্বশেষ বাড়ি থেকে চলে আসার পর এই আলোর দুপুরকে ভাল লাগে। যেন আগে কখনো দেখিনি এমন অলস দুপুর। দূর থেকে দূর কোথাও কোন বাড়ি ঘর নেই। দু’ একটা বড় বাস বাদে কোন বাহনও নেই। মানুষের হাটা চলাও শূণ্যের কোটায়।

পাহাড়ের এই রাস্তা গুলো উঁচু নিচু হওয়ার কারণে বাসের গতির সাথে সাথে দুলছিলো শরীরও। এখানেই যেন রোমাঞ্চের শুরু।

গাড়ি নামিয়ে দেয়ার কথা বান্দরবান সদরে। মেঘলা দেখার জন্যে নেমে গেছি আরো ৫ কিলোমিটার আগে।



মেঘলাতে ঢুৃকতে শুরুতে ঢালু পথ। নিচে নেমে যাওয়ার পর লেকের দেখা পেলাম। প্যাডেল বোট চলছে বেশ কয়েকটা। সোজা ওয়াচ টাওয়ারের মত একটা বিল্ডিং এ উঠে চারপাশটা একবার দেখে নিলাম। সামনেই এক বিশাল আঁকাবাঁকা লেক। তার উপর চলে গেছে ঝুলন্ত সেতু। সেতু পেরিয়ে উঠার পর আবার পাহাড়ের শুরু। সেই পাহাড়ের চূড়োয় আছে ক্যাবল কার। ১৬০০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই ক্যাবল কারে চড়ে বিশেষ কিছুই মনে হলো না। অবশ্য প্রথম বারের কিঞ্চিৎ উত্তেজনা ছিল তো বটেই।

পূর্ব দিকে পাহাড়ে গা বেয়ে হাটতে লাগলাম। কিছুটা দূর যাওয়ার পরেই আদিবাসীদের চায়ের দোকান। অত গরমে আর চা কি করে খাবে!

এখানে চিড়িয়াখানা আছে শুনে হন্তদন্ত হয়ে ছুটলাম ভেতরের দিকে। না চিড়িয়াখানায় অত প্রাণী নেই। এই যা এটাই তো স্বস্তির বিষয়। প্রাণী থাকবে মুক্ত। ঘুরবে ফিরবে চারদিকে। বীর পুরুষ হয়ে তাকে ঢুকিয়ে রেখে প্রজন্মকে প্রাণী চেনানোর কি আছে?



মেঘলা থেকে বেরিয়ে হাটতে লাগলাম। অনেক মোড়েই বড় লুকিং গ্লাস লাগানো। বাঁক গুলোর যা ভয়াবহ অবস্থা উপায় কি!

সিএনজি অটোরিকশার মত কিছু গাড়ি চলছে এদিকে। উঠে পড়লাম একটা থামিয়ে। নামিয়ে দিল নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রের নীচে।

সাথে সাথে এক বাইকার ভাই এসে হাজির। জনপ্রতি একশ টাকা করে নেবে উপরে তুলে দিতে। এদিকে ক্ষিধেয় তখন পেটের অবস্থা খারাপ। লোকে বলবে ক্ষিধেয় কি পেট খারাপ হয়? এখন ক্ষিধেয় যদি মরণদশা হয় এরচে খারাপ তো আর লাগে না। পাশের দোকান থেকে পেয়াজু খেতে খেতে পরামর্শ নিলাম উপরে কি হেটে উঠতে পারব? এদিকে পকেটের অবস্থাও খুব একটা ভাল না। তিনি জানালেন মিনিট ৩০ লাগবে। আরে বাবা এ আর এমন কি! চিটাগং থেকে এত দূর আসা গেছে হেটে এটুকু পথ যেতে না পারলে তো হবে না।

বাধ সাধল দোকানের ছোট ছেলেটা। বলল পারব না। বিশ্বাস না করে হাটতে যাব তখন একটা অটোরিকশাকে উপরে উঠতে দেখলাম। দরদাম না করেই উঠে পড়লাম। সে রিজার্ভ একজনকে নিয়ে যাচ্ছিলো।



মাঝখানে এক জায়গাতে দেয়াল লিখন চোখে পড়লো যেখানে লেখা ‘বাংলার দার্জিলিং বান্দরবানে আপনাকে স্বাগতম’ অবশ্য এ কেমন দার্জিলিং শুরু থেকেই টের পেয়েছি ভাড়া ডাকাতি দেখে।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে দু’ হাজার ফুট উচ্চতায় টাইগারপড়াায় পাহাড়ের উপর নীলাচল পর্যটন কেন্দ্র। বেশ কয়েকটা আদিবাসী গ্রাম পেরিয়ে পাহাড়ের গা পেঁচানো রাস্তা ধরে উঠে গেল একদম চূড়োয়।

জায়গাটা এই দুপুরের আগেই লোকজনে ঠাসা। বেলা কত হবে আর বারটা কি একটা বাজে। চারপাশটা সবুজের বিশাল বাগান। পাহাড়ের পর পাহাড়। অবশ্য একপাশে পাহাড় অত নেই। একজন জানালেন ওটা বান্দরবান শহর। স্বর্ণ মন্দিরটাও দেখা গেল।

ভেতরে ঢুকতে আবার টিকেটের ঝামেলা। বসার জন্যে সিমেন্টের ঢালাই করা আসন পাতা আছে। এটা ঠিক বসাও না। ফটোগ্রাফি করা।

কোথাও কোথাও বাস দিয়ে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। ছবি তুলতে বেশ সুবিধার।



পূর্ব দিকে তাকিয়ে কিছুটা অস্বস্তির তৈরি হলো। ‍ওদিকে চোখের দৃষ্টি সীমায় তবে দেশের শেষ। মানে যেদিকে দু চোখ যায় চলে যাব বললেও যাওয়ার জো নেই। আটকে দেবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

একজন বলছে কেন ভোরে আসেনি। আরেকজন বলছে সন্ধ্যায় আসলে বেশ হতো। আরে বাবা এসেই যখন গেছি কোনটা হলে কি হতো অত তো আমার জানতে হবে না।

কে যেন দাবি করে বসল এখানে কুয়াশা ছাড়া সময়ে আসলে কক্সবাজার দেখা যেত। তাদের হা পিত্যেশ শেষ হওয়ার আগেই নীলাচল ঘোরা হলো।

পাহাড়ের এই ঢেউ খেলানো সৌন্দর্যের ভেতর কোন খাদ নেই।নীলাচাল থেকে কুয়াশার জন্যে চারপাশটা নীলই দেখালো পরে রোদ বাড়ার সাথে সাথে সোনলি আভায় ছেয়ে গেল চারপাশ।

এদিকে আকাশ ভাই আদিবাসীদের দোকোনে নিয়ে গেল। উলের তৈরি শাল বিক্রি করছে। দরদাম করতে করতে ভাই কিনে নিল। আমাকে বলছেন, নেবে না? বান্ধবী নেই?



কথা হলো তাদের সাথে। অনেকটা দূরে আঙ্গুল উঁচিয়ে দেখালেন সেখানে তাদের বাড়ি। দূরের পাহাড়ের ওই পথটা যে কত দুর্গম সেটা কিছুটা অনুমান করতে পারি। তাদের এই সংগ্রামী জীবন অপরাপর বাংলাদেশী থেকে আলাদা।

বান্দরবান নামটার সাথে আদিবাসীদের একটা সম্পর্ক আছে। মারমা ভাষায় বান্দরবানের নাম রদ ক্যওচি ম্রো। বান্দরবান নামটা যখন প্রচলিত হয়নি তখনের কথা। একটা সময় ছিল যখন এ এলাকায় ছিল অসংখ্য বানরের বাস। শহরে ঢোকার পথে যেসব ছড়া ছিল সেখানে বানরগুলো লবণ খেতে আসতো। এক সময় টানা বৃষ্টির কারণে ছড়ার পানি বেড়ে গেলে বানরের দল ছড়ায় আটকে যায়। পাহাড়ে যাওয়ার জন্যে একে অপরকে ধরে সারি করে পার হয় ছড়া। এ দৃশ্য দেখে স্থানীয়রা জায়গাটির নাম দেয় ম্যাঅকছি ছড়া নামে । মারমা ভাষায় ম্যাঅক অর্থ বানর আর ছি অর্থ বাঁধ। পরে বিবর্তন হতে হতে নামটা বান্দরবান হয়ে গেল।

অবশ্য এর পুরোটাই রুপকথা। বিশ্বাস অবিশ্বাস পাঠকের উপর।

মারমা সেই মহিলার সাথে কথা শেষ হলো। আমি হিসাব কষছিলাম কার জন্যে নেব। মার জন্যে না বোনের জন্যে। এদিকে কারো জন্যে নিতে গেল ফেরার টকা নিয়ে বাঁধবে ঝামেলা। অত হিসেব বাদ দিয়ে কেটে পড়লাম। নামার পথে আবার লোকাল গাড়ি পেলাম।

নামতে নামতে কথা হলো ড্রাইভারের সাথে। জানালেন এখানে উপজাতিরা আগে সমতলেও ছিল। সেখানেই বেশি ছিল। নানা কারণে তারা সমতল থেকে চলে এসেছেন। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে এখানে অসংখ্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। তাদের ভাষাও ব্যাপক বৈচিত্র্যময়। মারমা, ম্রো, ত্রিপুরা, বম, লুসাই, চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, চাক, খেয়াং, খুমী, পাংখুয়াসহ বেশ কয়টি ভাষায় কথা বলেন তারা।

বান্দরবান শহরেই নামিয়ে দিল। কথা হলো কালের কণ্ঠের বান্দরবান প্রতিনিধি মনু ভাইয়ের সাথে। জানালের প্রেসক্লাবের সামনে আছেন। সেদিকে আমার মন ছিল না। প্রেসক্লাবের সামনে থেকেই চলে গেছি স্বর্ণ মন্দির দেখতে।

তার আগে অবশ্য বান্দরবান শহরটা আংশিক দেখা হয়েছে। আমাদের উপজেলা সদরের মতই অনেকটা। একটা পর্যটন শহরকে এভাবে দেখে ভাল লাগেনি।

ম্যাপের খবর নিলাম। এ জেলার পূর্বে আমাদের রাঙামাটি জেলা ও মায়ানমারের চিন প্রদেশ। দক্ষিণে ও পশ্চিমে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ।

অবশ্য এসব সীমানার বেশ কবার বদল হয়েছে। জাতীয়তাবাদী বাংলাদেশীরা তাতে অবাকও হতে পারেন। এ এলাকা সবশেষ ব্রিটিশদের দখলে ছিল। তার আগে মুঘল , চাকমা রাজা, ত্রিপুরার রাজা ও আরাকানের রাজার দখলে ছিল।

বান্দরবানের অস্তিত্ব পাওয়া যায় ১৫৫০ সালে আঁকা বাংলার মানচিত্রে। তারও ৬০০ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৫৩ সালে বান্দরবান আরাকান রাজার দখলে ছিল এলাকা। পরবর্তীতে ১২৪০ সালে ত্রিপুরার রাজা বান্দরবাল দখল করে নেন। ১৪০০ শতকের দিকে চাকমা রাজার দখলে চলে যায় বান্দরবান। ১৫৭৫ সালে আবারো আক্রমণ করে আরাকান রাজা কিছু এলাকা পুর্নদখল করে সেটি ১৬৬৬ সাল অবধি টিকিয়ে রাখে। ১৬৬৬ থেকে ১৭৬০ সাল পর্যন্ত এলাকাটি সুবা বাংলার অধীনে শাসন করে মুঘলরা।

১৭৬০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এ এলাকাটি নিজেদের শাসনাধীন করে নেয়। ১৮৬০ সালে এ এলাকা ব্রিটিশ ভারতের অর্ন্তভুক্ত হয়। আজ আমরা চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস বা পার্বত্য চট্টগ্রাম বলি নামটা সে সময় ব্রিটিশদেরেই দেয়া।

স্বর্ণ মন্দির দেখতে যাব। রিজার্ভ বাদে কোন গাড়ি যাবে না। ট্রাফিক মোড় থেকে গাড়িতে উঠলাম। সামনেই পরলো সাঙ্গু নদী। আদিবাসী ছেলে মেয়েরা খেলায় মেতে আছে। নদী তীরের জীবন যেমন হওয়ারকথা তেমনই।

সেনা বাহিনীরা এলাকা সহ কয়েকটা অনেকটা দূর গিয়ে স্বর্ণ মন্দির। অবশ্য এদিকটায় আকাশ ভাই চাপ দেয়াতে আসা।

জায়গাটার নাম বালাঘাটা। পাহাড় চূড়োয় মন্দির। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠি। জুতোও রাখা হলো। ঢুকতে চাইলাম চাইছে ৫০ টাকা। বিরক্তির উপর বিরক্তি। কারণ এভাবে টাকা দিতে থাকলে আমার ফেরা হবে না। ভাইকে জানালাম গুগলে যথেষ্ট ছবি আছে। চলেন ফিরে যাই।
ফিরেই আসলাম।

মনু ভাইয়ের অফিসে গেছি। কথা হলো। আদিবাসী ইস্যু, কোটা ইস্যুতে আলাপ হলো। আমার চোখে দেখা একদিনের বান্দরবানের মূল্যয়ন নিয়ে তিনি বেশ আপত্তি জানালেন। আমিও একমত হতে দেরী করিনি। উনার চেনা বান্দরবানকে ঘণ্টাখানেকে চিনে ফেলে বিশেষজ্ঞ মত দেয়ার চেষ্টায় লজ্জিত হলাম।

এবার আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা কি করব? রাতের বেলা ফানুস উড়ানো দেখব না অন্য কোথাও ঘুরতে যাব? চট করে আকাশ ভাই বললেন কক্সবাজার যাই।

এদিকে আমি বললাম রাঙামাটি যেতে। ভাই জিতে গেল। মানে কক্সবাজার যাত্রা ঠিক হলো। বান্দরবান আর সাতকানিয় যোগাযোগ এত সহজ জানা ছিল না।

নিয়মিত বিরতিতে বাস চলছে এ রুটে। মিনিট ৩৫ এর পুরো পথটাই ঘুমিয়ে কাটাতে হলো। আগের রাতে ঘুমাতে না পারার ষোল আনাই যেন পুষিয়ে নিতে চাইছি। কেরানীহাট নেমে রাস্তার পাশে গরম ছোলা আর বেগুনি দেখে অত বাঁধ মানছিল না। চটপট খেয়েই রাস্তা পেরোতে দেখি কক্সবাজারের বাস। এবার আবার ঘুম।

জাতীয়তাবাদী বাংলাদেশীদের শত গর্বের এই কক্সাবাজারের বড় একটা অংশ ১৬১৬ সালে মুঘলরা দখল করে নেয়ার আগ অবধি আরাকান রাজ্যের অংশ ছিল। মানে জাতীয়তাবাদীরা আজ যে এলাকাকে অচ্ছুত মনে করছেন যেসব এলাকার বাসিন্দাকে রোহিঙ্গা বলে গাল দিচ্ছেন তাদের নিজের এ এলাকাও রোহিঙ্গাদের অধীনেই ছিল।

মুঘলদের পরে এ এলাকা ত্রিপুরা এবং আরকান রাজের দখলে এরপর তার পর পর্তুগিজ এবং সর্বশেষ ব্রিটিশদের অধিকারে আসে।

পালংকি নাম বদলে কক্সবাজার নামটি রেখেছেন ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স নামে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক অফিসার। আরাকান শরণার্থী এবং স্থানীয় রাখাইনদের মধ্যে বিরোধ নিরসনের চেষ্টা করেন তিনি। তার আগেই তিনি মারা যান। এ অবদান স্মরণীয় করে রাখতেই একটি বাজার তৈরি করা হয়। নাম দেয় হয় কক্স সাহেবের বাজার। সে থেকেই কক্সবাজার।

কলাতলী মোড়ে নেমেছি। হৈ চৈ চারদিকে। রিকশাওয়ালা টানছে কে কাকে নেবে সে কি এক প্রতিযোগীতা। বন্ধু রবকে কল দিলাম। জানালো সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাথে চলে যেতে। চলেও গেছি। এদিকে তার আসার খবর নেই।

আকাশ ভাই ছুটলেন বিচ দেখতে। আমি দাড়িয়েই আছি। অবশ্য এ আর নতুন ঘটনা নয়। আমিই দাড়িয়ে থাকি। রব আসল। ওর পরিচিত হোটেলেই উঠলাম। সেটা না করেও উপায় নেই। ওর পরিচিত না হলে অত টাকার চাপ নেয়ার সাধ্য ছিল না।

রবের কেউ একজনের অপারেশন ছিল বলে চলে গেল। থাকার কথাও না।

তারপর সমুদ্রে গেলাম। সিজন না হওয়াতে লোকের আনাগোণা নেই। বিচে নির্দিষ্ট দূরত্বে আলো লাগানো। সেই আলোতে ঢেউ ভাঙতে দেখা যাচ্ছে। বালিতে পা ছড়িয়ে আমরা বসলাম। শো শো বাতাস আর ঢেউ ভাঙা গড়ার শব্দ।

এরকম সময় এই বছরে আট দশবারও আসে না তখন ওটাই ভাবছিলাম। মানে কি এমন ক্ষতি হয় সব কিছু আরো সহজ হলে। চাইলেই সমুদ্রে আসা গেলে?

ক্ষিধের জন্যে হোক আর রাত হওয়ার কারণে ফিরতে হলো। পুরো জামা বালুয় ভরে গেছে। হোটেল কেমন, কেমন ঘুমালাম ওসব বাতিক আমার নেই ছিল না। খেয়ে এসে ঘুম দিলাম। সকাল হতেই জোয়ার দেখার ভূত চেপে ধরল। পারলে ভাইকে ফেলেই চলে যাই।

তখন সকাল দশটা। আহা পূর্ণ জোয়ার। বালুচর ধরে দক্ষিণ দিকে হাটতে হাটতে ঝাউবন পেলাম। ঝাউবনের ভেতর হেটে বড় একটা খালি মাঠের পাশের রাস্তা দিয়ে আবার মৃত প্রাণীর শহরের মহাসড়ক ধরে কল দিলাম রবকে।

ভাই জানালেন মহেশখালী যেতে চান। বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ী দ্বীপ হিসেবে চেনা এই মহেশখালী যাব শুনে আমিও ছটফট করছি। রবের কথা মত ছয় নাম্বার ঘাটে হাজির।

ভাসমান জেটির উপর লোকজন বাসে উঠার লাইনের মত করেই স্পিড বোটে চড়ছে। এর মধ্যেই দেখলাম পা ভাঙ্গা একজনকে কোলে করে নিয়ে আসা হচ্ছে। দ্বীপের মানুষের প্রতি আমার দুর্বলতা আছে। সেই দুর্বলতা ঘাটে এসে আরো বাড়ে।

স্পিড বোটে চড়ে বসলাম। সাগরে ওরকম কোন ঢেউ নেই। স্পিড বোট পানির ফোয়ারা ছড়িয়ে সামনের দিকে ছুটছে। খাল পেরিয়ে সাগরে পরল বোট। পাশ ঘেঁষে আরো দু চারটা বোট ছুটছে।

সামনে ছুটছি যত পাড় আরো দুরে সরছে। কেওড়া গাছের বাগানে দু পাশে। অবশ্য এরপর আর অস্পষ্ট পাড় ছাড়া কিছুই চোখে পড়ছিলো না।

বিশাল কেওড়া গাছের বাগানের পাশ দিয়ে চলে গেছে খাল। বোট খালে ঢুকে বামে ফাঁকা জায়গাতে ঢুকে পড়ল।

উইকিপিডিয়ার তথ্যনুসারে ১৫৫৯ খ্রিস্টাব্দে প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে এ এলাকটি মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

১৫৮০ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ চট্টগ্রামে আরাকানের অধীনে থাকলেও মহেশখালী দ্বীপের তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। এখানে জলদস্যুদের বাস ছিল। বাংলায় কোম্পানী শাসন চালু হলে দ্বীপটি সবার নজরে আসে।

অবশ্য পরবর্তীতে টাকার বিনিময়ে ইংরেজ কালেক্টর চার্লস ক্রাফটস থেকে পরে স্থানীয় দেওয়ান কালিচরণ কানুনগো দ্বীপটি কিনে নেন।কানুনগোর কোনো সন্তান ছিল না। তার দত্তক সন্তান চণ্ডিচরণ এ দ্বীপের মালিক হন। পরে তার দত্তক সন্তান শরৎচন্দ্র মহেশখালীর দায়িত্বভার পান। দায়িত্ব নিয়েই তিনি বিশাল একটি দীঘি খনন করে (যা বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের সম্মুখে অবস্থিত) স্থানীয়দের কাছে সমাদৃত হন।

মহেশখালী ঘাটে এসে গেছি। অর্ধ কিলোমিটার লম্বা একটা ব্রিজ। খুব একটা শক্তও নয়। এই ঘাট যুক্ত করেছে কক্সবাজার-মহেশখালীখে। পরে অবশ্য আরো ঘাটের দেখা পেলাম।

বরাবরের মত রিকশাচালকরা ঘিরে ধরল। কেউ বলছে ২ হাজার টাকায় পুরোটা ঘুরে দেখাবে কেউ আরো কম দিয়ে। কল গেল রবের কাছে। ও স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতার নাম্বার দিল।

ব্যাপারটা বেশ দারুণ মনে হলো। ছাত্রলীগ নেতাকে কল দিলাম। বেচারা খুব ব্যস্ত আসতে পারবে না। তবুও সময় দিতে রাজি। রিকশা করে গোরকঘাটা মোড়ে গেছি। তার আগেই দেখলাম রাখাইন পল্লাী।

আমরা এগোতে থাকলাম। আরো অর্ধ কিলোমিটার বাগানটা চলে গেছে। দু পাশে ছোট ছোট জেলে নৌকা বাঁধা।

সদর হয়েই জায়গাটায় যেতে হয়েছে। খুব ছোটখাটো একটা সদর। লোকজন তেমন একটা নেই।

অবশেষে আমাদের ছাত্র নেতা এলেন। বলল খুব চাপ। তার ছোট ভাইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। ছোট ভাই সবে ক্লাস টেনে পড়ছে।

ছাত্র নেতা সরে যাওয়ার পর তার রাজনৈতিক ছোট ভাই আমাদের সঙ্গ দিল। জানালো সে ভাইয়ের খুব কাছের লোক। আমরা বিশ্ববিদ্যায়ের কার অধীনে রাজনীতি করি জানতে চাইলো।

খুব উৎসাহের সাথে আমাদের আদিনাথ মন্দিরে নিয়ে গেল। ঘুরে ঘুরে ইতিহাস বর্ণনাও করলো। মন্দিরটা বিশাল। তবে বিশাল বলতে যা বুঝি অত বিশাল না। কিন্তু এই পাহাড় চূড়োয় মন্দিরটা আলাদা করে নজর কাড়ছে সমুদ্রের কারণেই। দূর থেকে তো দেখা যায় আবার এই মন্দির থেকেই সমুদ্র দেখা যাচ্ছে।

মন্দিরের সামনেই একটা ফুলগাছে অসংখ্যা সুতা বাঁধা। লোকজন ইচ্ছা পূরণ করতেই বাঁধে নাকি। মাজারেও এর চল আছে। মন্দিরের পেছন দিকটায় দুটো পুকুর দেখলাম। নিচে নামতে গেলেও মহিলাদের গোসল করতে দেখে যাওয়া হয়নি।

এ পুকুর নিয়েও জনশ্রুতি আছে। লোকে বলে এ দুটো পুকুরের পানি কখনোই শুকায় না। এর একটিতে গোসল করলে সকল রোগ দূর হয়।

মন্দির কমপ্লেক্সে একটি মসজিদ ও একটি রাখাইন বৌদ্ধ বিহার আছে। অবশ্য এটুকু দেখেই মনে হয়েছে অসাম্প্রদায়িকতা ব্র্যান্ডিং করলে আমি সবার আগে মহেশখালীর কথায় বলব।

সমুদ্রস্তর থেকে ২৮৮ ফুট উঁচুতে স্থাপিত এই মন্দির। এ পাহাড়ের নাম মৈনাক পাহাড়। এই পাহাড়কে ঘিরে অনেক লোককাহিনী আছে।

লোককাহিনী অনুসারে মহেশখালীর মৈনাক পাহাড়ে ত্রেতাযুগে শিবের আবির্ভাব ঘটে। রাম-রাবনের যুদ্ধের সময় শিবের আশির্বাদ লাভের জন্য রাক্ষসরাজ রাবন শিবকে আনার জন্য কৈলাশে যান । দেবতাদের অনুরোধে শিব রাবনকে শর্ত দেন বিরতিহীনভাবে নিয়ে যেতে পারলে শিব লংকায় যেতে রাজি আছেন। শর্ত মেনে শিবকে মাথায় নিয়ে রাবন যাত্রা শুরু করে। কিন্তু প্রস্রাবের জন্য মৈনাক পাহাড়ে রাবনের যাত্রাবিরতি ঘটে। এতে শর্তভঙ্গ হওয়ায় শিব, মৈনাক পাহাড়ে অবস্থান গ্রহণ করেন।

একদিন স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে এক নাগা সন্ন্যাসীর সহায়তায় নেপাল থেকে পাথরের অষ্টভূজা দুর্গামূর্তি মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

সমুদ্রের মধ্যে মৈনাক পর্বতের অবস্থান বলে রামায়নে উল্লেখ আছে।

মহেশখালী দ্বীপ এবং সমুদ্রের মাঝখানে আদিনাথ পাহাড়টির নাম মৈনাক পাহাড়।

ফি বছর শিব চতুর্দশী উপলক্ষে ১০ থেকে ১৫ দিনের জন্যে এখানে মেলা বসে। উপমহাদেশের হিন্দু ধর্মালম্বীরা এখানে আসেন। এরকম একটা মেলা সীতাকুন্ডেও হয়ে থাকে সে সময়।

কিংবদন্তি অনুসারে, ছোট মহেশখালীর তৎকালীন এক প্রভাবশালী বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ সিকদার, মাঝে মাঝেই পাহাড়ে হরিণ শিকার করতে যেতেন। একদিন হরিণ শিকার করতে গিয়ে সারা দিন এদিক-ওদিক ঘুরেও শিকারের সন্ধান না পেয়ে একটি গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। হঠাৎ কিছু একটার শব্দে তার তন্দ্রা টুটে যায়। শব্দ অনুসরণ করে তিনি দেখতে পান যে, একটি গাভী একটি মসৃণ শিলাখণ্ডের উপর বাট থেকে দুধ ঢালছে; এই গাভীটি তাঁরই গোয়ালঘর থেকে কিছুদিন আগে হারিয়ে যায়। গাভী আর সেই সুন্দর শিলাখণ্ডটি নিয়ে তিনি বাড়ি ফেরেন। সেদিন রাতেই তিনি স্বপ্নে দেখতে পান, এক মহাপুরুষ তাঁকে বলছেন যে, শিলাখণ্ডটি একটি দেব বিগ্রহ। এ বিগ্রহ যেখান থেকে নিয়ে এসেছেন সেখানে রেখে তার উপর একটি মন্দির নির্মাণ করতে হবে। মন্দিরের নাম হবে আদিনাথ মন্দির। এ আদিনাথের (শিবের) ১০৮ নামের মধ্যে "মহেশ" অন্যতম। আর এই মহেশ নাম হতেই এই স্থান পরবর্তীতে মহেশখালী হয়ে যায়।

গুগল বলছে, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তার কাকাবাবু সিরিজের জোজো অদৃশ্য উপন্যাসে মহেশখালীর বর্ণনা দিয়েছেন।

মন্দির ছাড়িয়ে পশ্চিমে সিঁড়ি বেয়ে উঁচু একটা জায়গাতে গেলাম। মূর্তি মতন কিছু একটা বসানো। তখন হবে ওই দুপুর একটা মতো।

পাহাড়ের নিচে দেখলাম পানের বরজ। আগে কখনো পানের বাগান দেখা হয়নি। জায়গাটা বেশ উঁচু। মোটামুটি ওখান থেকে দুদিকের সমুদ্র দেখা যায়। তাই দেখছিলাম আর ভাবছিলাম এখান থেকে ফেরার কোন কারণ নেই।

ঠান্ডা বাতাস আসছিলো খুব। গাছেল পাতা গুলোর নড়াচড়ার শব্দ ছাড়া কিছু নেই কোথাও। এমন দিন গুলো কতভাবে চুরি হয়েছে জীবন থেকে। আহা এমন মুহুর্ত কি আর ওই পড়ালেখার সিজিপিএতে পাওয়া যাবে?

ছোট জানালো আমরা যাব রাখাইন মন্দিরে। তার আগে অবশ্য আদিনাথ জেটিতে গেছি।

আদিনাথ জেটি কোন এক কারণে বিখ্যাত। নাম শুনেছি। আদিনাথ জেটির সামনেই একটা চায়ের দোকান আছে। সমু্দ্রের ‍উপর বাঁশ পেতে তৈরি করা এক দোকান। চা খাওয়ার প্রস্তাব উঠল। নিচে ঢেউয়ের ধাক্কা আর সমুদ্রের সেই শো শো বাতাস আর সাথে চা।

এর ভেতর সেই ছোট ভাইয়ের আরো একটা ছোট ভাই হাজির। দুজনেই আমাদের কাছে সোনাদিয়া দ্বীপের গল্প করলো। কোন এক রহস্যঘেরা সোনাদিয়া দ্বীপ। তাদের কাছেও অচেনা।

আমি অনেকটা জোর করেও আকাশ ভাইকে রাজি করাতে পারিনি। সোনাদিয়া দ্বীপ অচেনাই রয়ে গেল।

ঘোরা হলো দেখা হলো আরো দুটা মন্দির। স্বর্ণ আর স্বর্ণ বাদে আমি বিশেষ কিছু দেখিনি।

এর মধ্যে সেই ছোট ভাই মহেশখালীর পান খাওয়ালো। পান খাওয়ার অভ্যেস না থাকলেও এ বিখ্যাত পান খেয়ে পান খাওয়ার একটা রুচি তৈরি হলো তবে।

এর মধ্যেই ছোট অনেক গল্প করলো। তার সাথে ধাক্কা লাগাতে কিভাবে এক রিকশাওয়ালার রিকশা নিয়ে বিক্রি করে টাকা খেয়েছে। কিভাবে কক্সবাজারে কোন একটা ভোটের সময় সে আনসার সেজে জাল ভোটে সাহায্য করেছে। আরো কত গল্প গর্ব ভরে করেছে। সাবাশ! বললাম মনে মনে। কি আর করব।

আমাদের বিদায় দিতে ছোট আবার ঘাট পর্যন্ত আসল। টাকার খাতিরেই এবার মাল বোটে চড়া। অবশ্য আমি চেয়েছিলাম মহেশখালী থেকে চকরিয়া হয়ে শহরে ফিরব।

বোটে চড়ে সময় আর ফুরোয় না। উপরে একটা ছিদ্র করা পর্দা না চট লাগানো। বোট চলছে। লোকজন ঝিমুচ্ছে নয়ত চুপ করে বসে আছে।

জোয়ার তো নেই তখন পানি একদিকে বইতে শুরু করেছে। স্রোতের বিপরীতে চলার মত অবস্থা। কাছাকাছি যেতে চরের দিকে পেলন জাল ঠেলতে দেখা গেল কজনকে। এটাই নগদ লাভ।

ঘাটে নামতে নামতে অত আলো আর নেই। আমরা সুগন্ধা বিচে ফিরলাম। সূর্য ডুবি ডুবি করছে। জোয়ারে পা ভেজানোর আদিখ্যেতা আর গেল না। পা ভিজিয়েই ফিরতে হবে দেখে আকাশ ভাইয়ের রাগ।

ফেরার পথে আবার ঘুম।

বহদ্দারহাট গেলে গাড়ি পাব না ধরে নিয়ে নতুন ব্রিজ নেমে গেছি। পাঠাও ডাকি। তিনি আসতেই রাত ১টা হয়ে গেল। দেখি ভাড়া দেখায় ৩৪ টাকা। আমার আছে ৩৫ টাকা। উঠে পরলাম। বাসার কাছে এসে দেখি তিনি বিল বলছেন ৮৪ টাকা। পাঠাওয়ের এই অদ্ভুত প্রতারণার শিকার হয়ে লোকটি ছাত্র মানুষ ভেবে আমাকে বললেন চলে যাও।

মারলেও টাকা পেতেন না। তাই বলে একটু গরম হয়ে কথা বলবেন না!

এই অদ্ভুত মানুষটিই গত ছয় মাসে দেখা ভাল মানুষ। স্মরণ রাখার মত ব্যাপার এটা।

এরকম বাংলাদেশী সচরাচর আমি দেখি না। আমার সাথে দেখা হয় না।

জয়তু বাংলাদেশ।

Post a Comment

0 Comments