পাক-ভারত ও বাংলাদেশের ঘৃণাজীবিরা

১. একজন বাংলাদেশি ভারতপ্রেমী হতে পারবে না। তাহলে সীমান্তে ভারতীয় সৈন্য বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করাও বৈধ কাজ। কারণ সূত্রানুসারে তাদেরও বাংলাদেশপ্রেমী কিংবা মানবিক বা আইন মেনে ব্যবস্থা নেয়ার কথা না। সেই হত্যায় কোন ভারতীয় দুঃখ পাওয়ারও কথা না। যে দুঃখ পাবে সে ভারতীয়ই না।
২. মাত্র একজন বা গুটিকয়েক জঙ্গি কাশ্মীরে ভারতীয় সৈন্য মারার কারণে কোনভাবেই পাকিস্তানের পক্ষে কথা বলা যাবে না। এই হামলার জন্যে পাকিস্তানের যে বা যারা জড়িত না তাদের উপরও হামলা চালাও। তাহলে পাকিস্তানের তরফ থেকে ভারতীয়দের গালাগাল করাও বৈধ। তাদেরও ভারতপ্রেমী হওয়ার কথা না।
৩. একাত্তরে পাকিস্তান রাষ্ট্রের আর্মি এ ভূখন্ডে বর্বরতা চালিয়েছে। যদি সেটা এ রাষ্ট্রেরও আর্মি তবুও আমরা পাকিস্তানকে জনম জনম ঘৃণা করে যাব। তাহলে পাকিস্তানীরাও আমাদের ভালবাসার কথাও নয়।
কিন্তু দেখা যাচ্ছে নিজে প্রচন্ড ভারত বিদ্বেষী হওয়ার পরও কোন ভারতীয় বাংলাদেশকে গাল দিলে আমাদের খারাপ লাগে, ভারতীয় কেউ প্রচন্ড মুসলিম ও পাকিস্তান বিদ্বেষী হওয়ার পরও জঙ্গি হামলায় কষ্ট পায় তেমন এ দেশের জনতা পাকিস্তানের বাংলাদেশ বিদ্বেষ দেখে অবাক হয়।
আমার কাছে অধিকাংশ সাধারণ জনতা মানেই মনে হলো গান্ডু। এরা যে মানের সেই একই মানের মানুষকে দিয়ে অন্য দেশ সম্পর্কে ধারণা অর্জন করে।
এই যেমন, ফেসবুকের বিভিন্ন কমেন্ট বক্সে একে অপরের দেশ ও ধর্ম নিয়ে গালাগাল করা মানুষের সংখ্যা যথেষ্ট। এদের দিয়ে যদি আমি/আমরা দেশগুলোকে জানতে বুঝতে চাই তাহলে মনে হবে কোথাও কোন মানুষ নেই।
Ferdous ভাই প্রায় কটাক্ষ করে হোক আর মজা করে হোক আমাকে ভারতপ্রেমী বলেন। আমিও বিব্রত হয়ে অস্বীকার করার চেষ্টা করেছি।
শাশ্বতীদি ওদিকেরই নাগরিক। দুজনের দেশের কাগজে কলমে কিছু জিনিস ভিন্ন বাদে চিন্তায় কোন ফারাক নেই। সেই আরোপিত জিনিসের জন্যে গড়ে উঠা পরিচয় দিয়ে কাউকে বাসা বা ঘৃণা করা কতটা ঠিক বেঠিক ভাবা দরকার।
ভারত আমাদের তিস্তায় পানি দেয়নি, পাকিস্তান ক্ষমা চায়নি সবই ঠিক আছে। আমাদের দেশে সব মানুষ কি শতভাগ শুদ্ধ হয়ে গেছে? কেউ পাচার করে না? গুম, খুন কি হয় না? দেশে কি ভিক্ষুক নেই?
উপমহাদেশের মানুষজন হলে এমন, যে তাদের দেশে শত শত সংখ্যালঘু নির্যাতিত হলেও সে বিচলিত না। শুধু অন্য দেশে তার ধর্মের ভাই নির্যাতিত হলে সে প্রতিবাদী হয়ে উঠে।
নিজ দেশের সব মানুষই যখন শতভাগ শুদ্ধ মানবিক না তখন কিভাবে অন্য দেশের মানুষ শতভাগ শুদ্ধ হবে আশা করি?
শতভাগ শুদ্ধ বলে তো কিছু নেই। কোথাও নেই। সবাই একেকটা স্কেলে ভাল আর খারাপ। ভারতের সীমান্ত হত্যার বিরোধীতা করি পাশাপাশি প্রগতিশীল ধারার যে মানুষ তাদের ভালবাসি। পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও তাই।
খারাপকে স্পষ্টতই খারাপ বলেও তো বাসা যায়। দেশ, জাতীয়তা তো আর ধর্মের মত নয় যে এক ধর্মে থেকে আরেক ধর্মের কিছুতে ভালবাসা দেখালে ধর্ম নষ্ট হওয়ার মত ভালবাসা নষ্ট হবে।
যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণই ‍ঘৃণাজীবি তাদের ঘৃণা ও অন্ধতে খরচ হওয়া জীবনগুলোর জন্যে দুঃখ প্রকাশ ছাড়া কিছুই করার থাকে না।
ঘৃণার বিপরীতে আরো বেশি ঘৃণা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম হস্তান্তর করে একটা মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলা যদি সম্ভব হতো তাহলে যেদিন পৃথিবীতে ধর্মের উদ্ভব হয়েছে সেদিনই পুরো বিশ্বে শান্তি স্থাপিত হয়ে যেত।

Post a Comment

0 Comments