কর্ণফুলীর তীরে কদুরখিল

মনের ভেতর নানা পরিবর্তনের ঝড় বইয়ে গেছে শেষ কয়েক মাসে। সেই ঝড়ে কত চেনা মানুষ অচেনা হলো। কত অদেখা মানুষের সাথে নৈকট্য অনুভব করলাম। এই পরিবর্তনগুলোর ফলে রুটিন জীবনে কিছুটা ছেদও পড়েছে। কিন্তু এভাবে নিজের সাথে দ্বিধা দ্বন্দে থেকে আর কতদিন এগোনো যাবে?


ক্ষোভের সব আগুন অন্য পাশে সরিয়ে চারপাশটা আবার দেখা শুরু করব ঠিক করলাম। ঘরের পাশে কদুরখিল যাওয়া হয়েছে বেশ কয়েকবার। সকালের প্রথম আলোয় কর্ণফুলী দেখা হয়নি। সকালে মেসেঞ্জারে অন হতেই নয়নকে পেলামও । সেও যেতে রাজি।

যতটা সকালে যাব ভেবেছি অতটা সকালে উঠা গেল না। রাস্তায় ব্যস্ততা শুরু হয়ে গেছে। বাসে পিঠ সোজা করার উপায় নেই। চট্টগ্রামের এ দিকটা এখনো পুরোদস্তুর শহর হয়ে না উঠায় চোখে খুব একটা বিরক্তিও ছিল না। যতক্ষণে কালুরঘাটে সেতুতে পৌছলাম ততক্ষণে সকালের প্রথম আলো ফুরিয়ে গেছে। রোদ ছড়িয়ে পরেছে কর্ণফুলীতে।

মানুষের ভীড় ঠেলে সেতু পার হয়ে পশ্চিম কদুরখিলের দিকে হাটা শুরু করি। এই কদুরখিল গ্রামটা বারবার প্রেমে ফেলছে। দু পাশে ঘন গাছে ঘেরা রাস্তা ও খালের ধারে পাশের বাড়ি গুলোতে বুনো ব্যাপার রয়ে গেছে। শহরের কাছে হয়েও শহরের কোন যান্ত্রিকতাই তাদের পেয়ে বসেনি। সামনে এগোতে এগোতে কর্ণফুলীর আঁকাবাঁকা শরীর দেখতে দেখতে এগোলাম। কিছুদূর যেতেই ছোট ছোট খাল ঢুকে পরেছে বাড়ি গুলোতে। দু’একজন মাছ ধরার নৌকা নিয়ে একমনে বরশি ফেলছে। 



ভেতরের দিকে হাটতে হাটতে রিভারভিউ পৌছলাম। রিভারভিউর পশ্চিমে কর্ণফুলীর বুকে বিশাল এক চর জেগেছে। কুয়াশা সরিয়ে আস্তে আস্তে সেই চর স্পষ্ট হলো। ব্যস্ততা বাড়ার সাথে সাথে রোদও এসে গায়ে পরলো। আমাদের রোদের সাথে আজ দেখা করার কথা ছিল না। রোদ ছাড়া কর্ণফুলীকে ভালবেসেছি এবার। ফিরতি পথ ধরতে হলো রোদ থেকে পালাতে।





Post a Comment

0 Comments