পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশ হলে চিটাগং কেন চট্টগ্রাম নয়?

পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশ হলে চিটাগং কেন চট্টগ্রাম নয়?
চিটাগং নয় এবার চট্টগ্রাম নামেই জানুক সকলে। 
অনেকেই চিটাগংকে ইংরেজীতে চট্টগ্রাম বানানোর বিরোধিতা করে বলছিলেন এতে কি লাভ হবে। তারা জাগতিক লাভই বুঝেন শুধু। কোন রাজাকারের নামে থাকা ভার্সিটির নাম পরিবর্তনে কি লাভ খুঁজতেন? তাহলে দখলদার ব্রিটিশদের দেয়া নাম পরিবর্তনে লাভ খুঁজেন কেন? নাকি পাকপ্রেম না জায়েজ ব্রিটিশ প্রেম সহীহ?
কোটা আন্দোলনকারীরা বললেন চাইলাম কোটা সংস্কার পেলাম জেলার নাম সংস্কার। বিরোধীদলের চোখে জনগণের উন্নয়ন বাদ দিয়ে কি দরকার এসবের আর ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক জ্ঞান না থাকা প্রজন্মের কথা হইল কি দরকার ছিল এসব ফাজলামোর! এদের সাথে আমার পাড়ার গেদু চাচার ভাষ্যের কোন ফারাক দেখি না।
আমি একটাই কথা বুঝি। উপনিবেশিক শাসনের চিহ্ন যতটা সম্ভব মুছে ফেলা জরুরী তাতে যত হাজার কোটি লাগে লাগুক কিংবা সমস্যা হোক যেমন জরুরী হয়ে উঠত বাংলাদেশের কোন বিমানবন্দরের নাম যদি কোন রাজাকারের নামে থাকত সেটা বদলানো এবং তাতে যাই লাগুক। দুটোই আমার কাছে সমান। এবার কোন দেশে উপনবেশিক চিহ্ন রাখল নাকি রাখল না সেই ফিরিস্তি নিয়ে আসার দরকার নেই। বিবিসির খবরটা দেখি,
বাংলাদেশের কয়েকটি জেলার ইংরেজি নামের বানান বদলে দিয়েছে সরকার। জেলাগুলো হচ্ছে- চট্টগ্রাম, বরিশাল, কুমিল্লা, যশোর ও বগুড়া।
সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলা উচ্চারণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই পাঁচটি জেলার ইংরেজি নামের বানানে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় আজ সোমবার নামের বানান পরিবর্তনের এই প্রস্তাবে অনুমোদন করা হয়।
ইংরেজি নামের বানানে এই পরিবর্তনের ফলে প্রশাসনিক কোন সমস্যা হতে পারে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সচিব এনএম জিয়াউল আলম বলেন, "প্রথমদিকে কিছু সমস্যা হতে পারে। কিন্তু একবার চালু হয়ে গেলে পরে আর কোন সমস্যা হবে না।"
শান্তুনু দাদা ২০১৫ সালে প্রথম আলোতে লিখেছিলেন, চিটাগং গ্যাজেটিয়ারে লেখক এ-ও উল্লেখ করেছেন যে ইংরেজ শাসকদের অনেক বদভ্যাসের মধ্যে একটি ছিল ‘ভালগারাইজেশন অব নেমস’ নামের বিকৃতি করা। এটা যে আমরা উপলব্ধি করিনি, তা কিন্তু নয়। ঢাকা এখন সারা পৃথিবীতে ঢাকা নামে পরিচিত, ড্যাক্কা (DACCA) নয়। বার্মা হয়ে গেছে মিয়ানমার, পিকিং বেইজিং, রেঙ্গুন ইয়াঙ্গুন, বম্বে মুম্বাই, ক্যালকাটা কলকাতা, তাহলে চিটাগং কেন চট্টগ্রাম নয়। একদিন আত্ম-অনুসন্ধানের পথ ধরে চিটাগংকেও হতে হবে চট্টগ্রাম। কারণ, এই নামের সঙ্গে কত কিংবদন্তি, কত গাঁথা–লোককথা–উপকথা মিশে আছে, কত সুখ-দুঃখের, যুদ্ধ-বিগ্রহের, বীরত্ব ও রক্তক্ষয়ের, ঝড়-তুফান ও প্লাবনের স্মৃতি আছে জড়িয়ে।
সুফি সাধকের পীর আউলিয়ার এই পুণ্যভূমির নাম চট্টগ্রামই থাকুক, এ দেশে যেমন, ভিনদেশের মানুষও ডাকুক এই নামে। তাঁরা জানুক এই প্রাচীনতম বন্দরনগর, যা ইবনে বাতুতাকে মুগ্ধ করেছিল ১৩৫০ সালে, যা আইন-ই-আকবরিতে উল্লিখিত আছে সমুদ্রপাশে সুন্দরতম নগরী বলে তার নাম চট্টগ্রাম। কেন অহেতুক চিটাগং হবে। সেই কবে আমাদের রক্ত-মাংস চিবিয়ে আমাদের ঝাঁঝরা করে দিয়ে
সব লুটেপুটে চলে গেছে ইংরেজ আর আমরা এখনো সেই নাম বহন করে চলেছি। এটা ভীষণ লজ্জার। ’৪৭-এ ভারত-পাকিস্তান, ’৭১-এ বাংলাদেশ, তবু ঔপনিবেশিক ভূতকে তাড়ানো গেল না। আসুন, সবাই মিলে আওয়াজ তুলি, চিটাগং নয়, এই সুন্দরতম অঞ্চলের নাম ‘চট্টগ্রাম’, বিশ্বের সবাই যেন সেই নামে চেনে, সেই নামে ডাকে...।
শান্তুনুদার সেই চাওয়া সত্যি হলো। ব্রিটিশদের বিকৃত চিটাগং নয় চট্টগ্রাম হোক আমার পরিচয়। এবার যদি বলতে আসেন পৃথিবীর সব দেশে তো ঢাকার নাম ঢাক্কাই রয়ে গেছে কি লাভ হলো সেটা বদলে তাহলে বলব নিজের সম্মান বৃদ্ধিতে কাজ করুন। নিজেকে দুনিয়ার কাছে এমন অবস্থানে নিয়ে যান যেন আপনার গুরুত্ব এতটাই জরুরী হয়ে উঠে তারা নিজ খরচেই সব নাম বদলে নেয়।
আমেরিকা কাল এম্রিকা নামে গেলে সেই নামে না ডেকে উপায় আছে আপনার?
নিজেও অমন হয়ে উঠুন তারপর বাকী বাত...
আর আপনার দেশটা আগে পূর্ব পাকিস্তানই ছিল। স্বাধীনতার আলো জ্বলার পর সে বিশ্বে এতটাই জ্বলে উঠল বাংলাদেশ নামই ছড়িয়ে পড়ল। কই স্বাধীনতার পর কি পু্র্ব পাকিস্তান ধরে রেখেছিলেন? আর সেদিন কোন কারণে বাংলাদেশ নাম না হয়ে পূর্ব পাকিস্তান থেকে গেলে যেমন আছে পশ্চিমবঙ্গের তাহলে সেই নাম বদলে বাংলাদেশ করতে গেলেও কি অন্ধ বিরোধিতায় নামতেন?

Post a Comment

0 Comments