নৌপথে ঢাকা-কলকাতা

ছোটবেলায় বন্ধুদের সাথে বেশ তর্ক হতো সমুদ্রের ও পাড়ে কি? কেউ বলতো সাত সমুদ্র তের নদী পেরিয়ে গেলেই অন্য একটা পৃথিবী পাওয়া যাবে কেউবা বলতো পৃথিবীর শেষ ওখানেই আর কিছু নেই।


সন্দ্বীপে যেত কিছু লোক। তাদের কাছেও জানা যায় নি তার পশ্চিমে কি। পরে অবশ্য গুগল ম্যাপের কল্যাণে জানা হলো আমাদের পশ্চিমে পশ্চিমবঙ্গ। কলকাতা সমুদ্রপথে খুব কাছে। দেশপ্রেমের সংকীর্ণতার কারণে পশ্চিমের এই রাস্তাটা আমাদের কাছে অজানা। অবশ্য জাতির পিতা ভাগ করার আগে সমুদ্রপথে কলকাতা-ঢাকা যোগাযোগ ছিল। ‘বাঙালনামা’ বইয়ে পড়েছি এক সময় বারানসী থেকে নৌপথে বরিশালের কীর্তিনাশায় নানান জিনিসপত্র আনা হতো।
দেশ নামের গর্বের বস্তুকে মহান করতে গিয়ে সেই যোগাযোগ কমাতে কমাতে বন্ধ করেই দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের পাশেই মিজোরাম, আগরতলার মানুষ জানে তাদের রাজ্যে সমুদ্র নেই। অথচ পাশেই বিশাল সমুদ্র। এভাবেই মানুষকে প্রকৃতি থেকেও বিচ্ছিন্ন করা হয় দেশের নাম করে।
ভাল খবর এটা ঢাকা থেকে নৌপথে কলকাতা যাত্রা শুরু হচ্ছে আবারো। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) জাহাজ এম ভি মধুমতি ২৯ মার্চ কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে।
জাহাজাটি নারায়ণগঞ্জের পাগলা মেরি এন্ডারসন থেকে বরিশাল-মোংলা-সুন্দরবন-আন্টিহারা-হলদিয়া রুট হয়ে কলকাতার উদ্দেশে যাত্রা করবে। অবশ্য খরচটা একটু বেশিই হয়ে গেল। কজন যাত্রী পাওয়া যায় সেটাও দেখার বিষয়। বাংলাট্রিবিউনের সংবাদ বলছে,
ঢাকা-কলকাতা কেবিন ভাড়া ফ্যামিলি স্যুট (দুইজন) ১৫ হাজার টাকা, প্রথম শ্রেণি (যাত্রীপ্রতি) ৫ হাজার টাকা, ডিলাক্স শ্রেণি (দুজন) ১০ হাজার টাকা, ইকোনমি চেয়ার (যাত্রীপ্রতি) ৮ হাজার টাকা এবং সুলভ শ্রেণি বা ডেক (যাত্রীপ্রতি) ১৫০০ টাকা।

Post a Comment

0 Comments