কেউ আপনাকে ভুলে গেছে মনে হয়? ফেসবুকে যোগাযোগ রাখে না?

বলতে গেলে প্রায় সারাদিনই অনলাইনে থাকি। সেটা দেখে অনেকেই বলেন, কিরে একেবারে ‍ভুলে গেছো। কোন খোঁজ খবর নেই।
তাহলে এই যে সারাদিন অনলাইনে থাকা ব্যাপারটা হচ্ছে কি?
আমাদের প্রায় সবারই দিন শুরু হয় ফোন হাতে নিয়ে ডাটা অন করে। ফেসবুক চেক করে। তো চোখ মেলেই ডাটা অন করে কারো মেসেজ আছে কি নেই দেখে অফ করে দিয়ে উঠে পরি সবাই। তারপর কাজ থাকলে বের হই। এবার পথের মধ্যে হাটার সময় ডাটা অন করে আরেকবার হোমে গিয়ে দেখি দরকারী কিছু আছে কিনা। দু চার মিনিট পত্রিকা গুলোও দেখি যদি ডাটা থাকে। এবার ক্লাসের/কাজের ফাঁকে কিংবা ফেরার পথে অভ্যাসবশত আরো দু একবার ডাটা অন করা হয়। কিন্তু সেগুলো তাড়াহুড়োর ভিতর অন করে আবার অফ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তারপর বিকেলে বা সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে কারো পড়ালেখা কিংবা কাজ থাকে। অনেকের কাজের জন্যেই টানা ছয়/সাত ঘন্টা অনলাইনে থাকতে হয় আদতে সে তখন কাজে ব্যস্ত। তখন চাপের মধ্যে নেট অন থাকলেও চ্যাট করার মত অবস্থা থাকে না সবার। কিংবা ঘরের মানুষেকে সময় দেয়া। তারপর রাতে ঘুমাতে গেলে আবার ফেসবুকের হোমে ঘুরে দরকারী কিছু থাকলে দেখে নেয়া নয়ত ইউটিউবে ‘বড় ছেলে’ নাটক দেখে কান্নায় বুক ভাসানো। দিন শেষ।
পুরো দিনের ভেতর একবারো, কিরে দোস্ত কেমন আছিস। কত দিন দেখিনা তোরে অনুভূতি আসে না। কারণ জীবন চরম দৌড়ের উপর চলছে। বরং এরকম কোন দোস্তকে তখনই মেসেজ দেয়া হয় যখন ব্লাড বা কোন দরকার পরছে। প্রয়োজন মানুষকে যে কোন দরজায় দাড় করায় অন্য কিছূ নয়।
এই পুরো সময়টা জুড়ে অনলাইনে দেখায় মানে এই না খুব ফ্রি আছে কেউ। আর যোগাযোগ রাখা বলতে রোজ রোজ বা দু মাস পরেও দরকার ছাড়া কি কথা বলে যোগাযোগ রাখা যায়?
শুভ সকাল, কেমন আছেন, কি করছেন, কি করবেন, ঘরের সবাই কেমন, সকালে চায়ে বিস্কিট ডুবাই খাইসেন নাকি আঙুল ডুবাইসেন, আজকে আপনার কি মরার প্লান নাই, গোসল করতে ভাল লাগে নাকি বিড়াল দেখতে, তোমার প্রেমিকার বাবা গ্যাস্টিকের ওষুধটা খেয়েছে, ঘরের জানালা দিয়ে শুধু শীত ঢুকে না রোদ ঢুকে, শুক্রবারে বেড়াতে যান না রবিবারে, আকাশ দেখলে মন খারাপ হয় নাকি মাহফুজুর রহমানের গান শুনলে, ফেসবুকে বন্ধুদের ভিতর কার চোখ বেশি নাইচ লাগসা, ও দাদা আপনি যে প্রোপিক দিসেন সেটা দেখে চারদিন ঘুম আসে নাই, এই মেসেজটি তুমি দুশোজনকে পাঠালে ছয়শ দিনের মধ্যে তোমার মরণ হবার চান্স নাই, ইস্কুলে কোন টিচার বেশি ভাল পড়ায় - এই ধরনের কথাগুলো রোজ রোজ বললে যাকে বলব সেও বিরক্ত হবে। এসব দু চার মাসেও বলার কিছু আছে মনে হয় না।
ফেসবুকে যোগাযোগ রোজ হবে যদি তার সাথে বৈষয়িক দরকার কিংবা আগ্রহ থাকে নয়ত প্রেমের সম্পর্ক হয়। এর বাইরে দাদা-নাতি, ভাতিজা-চাচা, ভাই-বোন, ফ্রেন্ড-দোস্ত, ভাই-ভাই, ভাই-ভাবী, দুলাভাই-মায়ের পেটের ভাই কারো মধ্যেই রোজ বা বিরতি দিয়েও মেসেজ হওয়া সম্ভব নয়। তবে আরেকটা কারণে হবে দুপক্ষই যদি খোশগল্প করার সময় রাখে। কিন্তু আজকের দিনে এসে খোশগল্পের সময় আছে কার? যাদের আছে ইহারা অন্য জগতের মানুষ।
আমার সাথে অনেকের বছর দুয়েক বা তার বেশি যোগাযোগ হয় না। তার তিনটে কারণ।
১। তার আমাকে বা আমাকে তার কোন কাজে জরুরী মনে হয়নি
২। সত্যি বলতে আমি গত কয়েক বছরে ফেসবুকের চ্যাট লিস্টের নিচের দিকে নেমেই দেখিনি কারা আছে নেই। দরকার পরেনি বা সময়ই হয়নি।
৩। কথা বলার মত কিছু খুঁজেই পাইনি
তাই আমি কি তাদের ভুলে গেছি? উহু। ভুলে যাওয়ার মতন কেস এখানে হয়নি। ফেসবুকে এডড থাকাই যোগাযোগ থাকা। এবার কোনদিন কোন কাজ থাকলে যোগাযোগ হয়ে যাবে। নয়ত বেড়াতে গেলেই দেখা হবে।
সুখী হোন। জগতে সবাইকে সুখী রাখুন।

Post a Comment

0 Comments