ভারতে ডাক্তার দেখাতে আসার আগে যা করণীয়

বাংলাদেশ থেকে ডাক্তার দেখাতে বিদেশে( ভারতের নাম নিলে কিছু লোক ক্ষেপে যায়) আসলে বেশিরভাগ লোক নানা রকম বিড়ম্বনার মুখে পড়েন। তারা সব খোঁজ খবর নেন না তা নয়। তবুও আইনের ফাঁকের মত খোঁজ খবরের মধ্যে গলদ থেকে যায়। নিজ দেশ হলে না হয় সমস্যা গুলো তেমন কিছু না কিন্তু বাইরের দেশে তো মহাবিপদ। তাই আগে থেকে কিছু ব্যাপার জানা জরুরী।

ভিসা: রাগ থেকে একটু বিস্তারিত বলতে ইচ্ছে করছে। দেশের বেশিরভাগ পড়ালেখা জানা লোক ও মাথা মোটা। না জানাদের কথা বাদ। একটু মাথা খাটাবে, গুগল করবে সে সময়টাও নেই। সময় হয়ত আাছে এসব মাথায় নেই। ভিসা লাগবে? ভিসার এজেন্টকে মনে করে নেয় খোদা। সে যা বলে তাতেই পুর্ণ আস্থা স্থাপন করে ফেলে। এই কেতারদুরস্ত চিন্তা ভাবনার লোক গুলো সারা জীবন পড়ালেখা আর সার্টিফিকেটিই অর্জন করে যায় ঘরের কোণা থেকে বের হলেই পরে বিপদে।
ভিসা প্রথম করছেন কিছু জানেন না তাও মানি। কিন্তু আপনি তো জানেন বাংলাদেশের তিন পাশে ভারত। ভারতে ঢোকার অনেক বর্ডার আছে। কোন রাজ্যের কোন জেলায় যাবেন অত না জানলেও কলকাতা কোন দিকে যাওয়া যায় সেটা তো গুগল করে জানা যায় নাকি। ভিসা করার সময় দেখা যায় এজেন্ট তার ইচ্ছে মত বর্ডার সিলেক্ট করে রাখে। দেখা যায় বিমানে আসার কোন ইচ্ছাই নেই কিন্তু তার ভিসা করে দিল বাই এয়ার/বাই ট্রেন গেদে। এখন সমস্যাটা কোথায় হয়? টাকা নেই বিমানে যাবার বাট এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নেয়ায় বিমানেই যেতে হয় বাধ্য হয়ে। ওদিকে এপয়েন্টমেন্ট ডেট যে বদলানো যায় কিছু হাসপাতালে সেটাও অনেকে জানে না।
এপয়েন্টমেন্ট: দেশের লোক যে কত অস্থির ও বোকা সেটা এপয়েন্টমেন্ট করতে এলে ভাল বোঝা যায়। ভিসা করার পর উঠেপড়ে লাগে এপয়েন্টমেন্ট নিতে। ২০ তারিখের এপয়েন্টমেন্ট নিল আর আসবে ঠিক করেছে ১৬ তারিখ। কিন্তু সমস্যাটা এখানে হয় যার ভিসা ট্রেন হয়ে গেদে দিয়ে আর এয়ারে সে কোনটার টিকেটই ২১ তারিখের আগে পাচ্ছে না। বিমানের টিকেট পেলেও তার সাধ্যের বাইরে আবার ট্রেনের টিকেট পেলেও সমস্যা আছে আরো। কবে কোনদিন কত দামে টিকেট পেলে সেটার দাম কত হবে জানার আগেই এপয়েন্টমেন্ট নেয়ার কারণে টাকা খরচ করে এপয়েন্টমেন্ট নেয়ার পর সেটা তো মিস হয়ই আবার গিয়ে ৫ দিন বসে থাকতে হয় এপয়েন্টমেন্ট নেয়ার জন্যে। লসের হিসেব কত বুঝতে পারছেন?
আসার পথ : শেষ কজন পরিচিত এলেন গেদে হয়ে ট্রেনে। নামটা মৈত্রী হলেও এই ট্রেনের বিরাট ভোগান্তির ইতিহাস আছে। ট্রেনটা রাত ৯ টা নাগাদ কলকাতা পৌছে। সেখানে নেমে এবার নিউ মার্কেট যেতে হবে হোটেলের জনে। কিন্তু হয় কি কোান হোটেল পাওয়াই যায় না অত রাতে আর পাওয়া গেলেও টাকা অনেক বেশি লেগে যায়। এবার সব ব্যাগ পত্র নিয়ে যেতে হয় অন্য কোথাও। অত রাতে বাংলাদেশী পেয়ে ট্যাক্সি গলা কাটা ভাড়া বলে। তারপর সেই জায়গা থেকে পরদিন আবার আসতে হয় নিউ মার্কেট। তাতে করে আবার ভাড়া গুণতে হয়। ওদিকে রাত ৯ টায় আসার কারণে পরদিনের ততকাল টিকেটের জন্যে এজেন্টকে বলে রাখা যায় ন। যেখানে দিনে আসলে পরদিনের ততকাল টিকেট পাওয়ার সুযোগ থাকত সেখানে টিকেট না পেয়ে তার পরের দিন ও থাকতে হয় হোটেলে।
আবার বর্ডারে পৌছতে বাসে ৩ টার পার হয়ে গেলেও তবুও কলকাতা আসে বাসে। সেই রাত ৯া টায় বেজে যায়। সেই একি হোটেল না পাওয়ার গল্প।
ভারতে ট্রেনের টিকেট ও এপয়েন্টমেন্ট : বাঙালি সময়ের আাগে কিছু ভাবে না। গতির জীবনের সাথে অভ্যস্ত নয় । পরিকল্পনা করতেও নয়। সেটা আমাদের সিস্টেমের কারণেই। কলকাতা এসেই সাথে সাথেই অন্য রাজ্যে যাওয়ার টিকেট কম দামে চায়। তাও সাথে সাথে কালকেরটা আজ চায়। এত কম চিন্তায় করলে হয়। বর্ডারে এত হাজার হাজার লোক আসতে দেখল, ভারত এত বিশাল রাজ্য জানে তাও ভাবছে বললেই পেয়ে যাব যেখানে ঢাকা চিটাগং এর টিকেট দুদিন আগে থেকেই পাওয়া যায় না।
আর দেশের ডাক্তারের কাছে গিয়েই যেখানে লাইন ধররতে হয় সেখানে ভারতে হাসপাতালের এপয়েন্টমেন্ট চাইলেই পেয়ে যাব কাল পরশু ভাবে কি করে? তাই এখানে এসে ট্রেনের টিকেট করতে আর এপয়েন্টমেন্ট পেতে আরো বাড়তি ২-৫ দিন নষ্ট করে।
রুপি: বর্ডারে বা এয়ারপোর্টেই এজেন্ট এর পাল্লায় পরেরে টাকা বা ডলার রুপি করেরে। সেখানে যে কম দেয় সেটা অাগে জেনে নেয় না।
কেনাকাটা: ফেরার সময় এটা ওটা কিনে বর্ডারে ভয় পেতে থাকে। সেখানে এজেন্ট পার করে দেবার কথা বলে টাকা নিয়ে নেয়।
যাতায়াত ও থাকা : দুনিয়া অনেক এগিয়েছে। ট্যাক্সি এখন অনলাইনেই ডাকা যায় যেগুলো চলে মিটারে। দেশের লোক এসে কি করে কোন ট্যাক্সিকে ডেকে বলে ওখানে যাব। সে বুঝে বাংলাদেশী তখন ৫০০ টাকার ভাড়া ১২০০ নিয়ে বসে।
আর হোটেল নিয়ে দেশী লোক খুব বেশি অস্থির। কোথায় থাকবে না থাকবে। দুনিয়ার সব শহরেই হোটেলে উঠা ঢাকার মতনই হবে। যেমনটা কলকাতার ভেলোর আর ব্যাঙ্গালোরে দেখলাম। হাসাপাতালের আশে পাশেই কম খরচে থাকার জায়গা থাকে। তাই এসব নিয়ে দুদিন না ঘুমানোর কিছু নাই।
আমি কি করেছি ? যেভাবে কররতে হবে :
ভিসা থাকলেই বাা ভিসা পাবার আগেই ঠিক করতে হবে কোন মাসের কত তারিখ আমি যাব। যদি এটা এক দেড় মাস আগে ঠিক করা যায় তো কোন সমস্যায় হবে না। বিমানে গেলে সাথে সাথে বিমানের এজেন্টের সাথে কথা বলে জানতে হবে ওই তারিখে টিকেট আছে কিনা থাকলে টিকেট কত পরছে। আরো কিছুদিন পরে গেলে সেটার দাম কত পরবে। এটার সাথে সাথে যে হাসপাতালে দেখাব সেখানে এপয়েন্টমেন্ট ওই তারিখে খালি আছে কিনা। এবার কলকাতা থেকে যে রাজ্যে যাব সেখানের বিমান/ট্রেনের টিকেটের খোঁজ নিতে হবে।
এটা গেল বিমানের বিষয়। বাসে হলে বাসের বা ট্রেনের টিকেট নিয়ে ৫/৬ দিন আগে ভাবলেও চলে। কিন্তু এপয়েন্টমেন্ট ও ভারতের ট্রেনের টিকেটের খোঁজ নিতে হবে এক মাস আাগে থেকে।
এর অনেক কিছুই ভিসা পাবার আগেই করে নেয়া যায়। এপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিসার নাম্বাার লাগে।
আর বাসে করে গেলে কখনো বর্ডারেই যদি বিকাল হয়ে যায় তাহলে সেখান থেকে অটো ধরে বনগাঁও স্টেশন হয়ে ট্রেন ধরে যেতে হবে শিয়ালদহ।
অার বাড়ি চিটাগং বা ঢাকা হলে হরিদাসপুরের ভিসা করা উচিত ট্রেনের নয়।
এতে করে কি হবে?
এপয়েন্টমেন্ট এর ঠিক কদিন আগে বাংলাদেশে এয়ারের টিকেট বেশি দামে কিনতে হবে না। কলকাতায় গিয়ে হোটেল না খুঁজে সেদিনই চলে যাওয়া যাবে অন্য রাজ্যে তাও কম ভাড়াতেই আর এপয়েন্টমেন্ট ও মিস হবে না। এভাবে করে যদি করা যায় মোটামুটি ১০ হাজার টাকার বেশি বেচেঁ যাবে। সাথে দু তিন দিন সেভ হবে।
শুধু ডাক্তার দেখাতে এলেও নয় যারা বেড়াতে আসেন তারাও যদি দু তিন মাসে আগে প্লান করে বিমানের টিকেট করেন তাহলে যে ভাড়ায় এক রাজ্য থেকে এক রাজ্যে ট্রেনে যান সেটাতে বিমানেই যাওয়া যাবে।
অার কোন টাকা বা ডলার এয়ারপোর্ট বা বর্ডারে রুপি না করে কলকাতা করতে হবে। অন্য রাজ্যেও নয়। কারণ কলকাতায় যা দেয় অন্য জায়গাতে তার কম।
অার অাপনি ব্যবসার জন্যে বিশাল কিছু না কিনলে বর্ডারে ভয়ের কিছু নেই। এবার আসার সময় দেখলাম এক লোক পেয়াঁজ কাটার মেশিন কিনে ভারতীয় এজেন্টকে বলছে, দাদা এটা নিয়ে যেতে দেবে তো? আাটকাবে? সেই এজেন্ট আরো ভয় দেখিয়ে নিয়ে নিল ২০০ রুপি।
আর ট্যাক্সি সবসময় উবার/ওলা একাউন্ট খুলে ডাকতে হবে। তারা মিটারে চলে। কম টাকা লাগে। আর যে হাসপাতালে ডাক্তার দেখানো হয় সেখানে এসছে সেরকম কারো সাথে কথা বলে আসলে কোন অসুবিধায় হবার কথা নয়।
কি এমন ক্ষতি হয় সব দু মাস আগে থেকে ভাবলে? ভারতে একেকটা রাজ্য থেকে আরেকটা রাজ্যের দূরত্ব দেশের মতোই। বাংলাদেশে থেকেও দূরে। ওরা এক দেড় মাস আগেই যে দূরত্ব বিমানে ৩৫০০ টাকাতে যায় ২ ঘণ্টায় আমরা সেই দূরত্ব ৩৫০০ টাকার বেশি খরচ করে ট্রেনে যায় দু তি দিনে।
অামার হাতে প্রচুর টাকা না থাকায় অামি এত অাগে প্রস্তুতি নিতে পারি না বাট যারা ডাক্তার দেখাতে অাসবেন তাদের তো টাকা বাঁচলে সুবিধা।

Post a Comment

0 Comments