কেন বাংলাদেশ থেকে কাঞ্চনজঙ্গা দেখা যাবে? কেন ডেকে আনে শীত?

কেন বাংলাদেশ থেকে কাঞ্চনজঙ্গা দেখা যাবে? কেন ডেকে আনে শীত?


গ্রামের নাম রওশনপুর। উপজেলা তেঁতুলিয়া।

রাজনেতিক সীমানা বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলা। পাশের জেলা শিলিগুড়ি। ওটা আবার ভারত কারণ সেখানে হিন্দু থাকে বেশি। 

এই দুই জেলা থেকে হিমালয় পর্বত দিল্লির দূরত্বে না। সিকিম, নেপাল, চীন, ভূটান এগুলোও কাছে। সিকিমের সঙ্গে নেপালের পূর্বদিকের সীমান্তে হিমালয় পর্বতমালার একটি অংশকে বলা হয় কাঞ্চনজঙ্গা। এটি আবার পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ হওয়ার কারণে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।

এটুকু তো ঠিকই ছিল। সমস্যা হলো এই কাঞ্চনজঙ্গার পূর্বদিকে আছে তিস্তা নদী। সেই তিস্তা নদী আবার ঢুকেছে বাংলাদেশে। সেটুকুও না হয় মানা গেল।

হিন্দুর দেশের কাঞ্চনজঙ্গা দেখা যাচ্ছে মুসলিম ভূখন্ড বাংলাদেশের রওশনপুর থেকে। ওদিকে শোনা যাচ্ছে এই কাঞ্চনজঙ্গাকে পবিত্র মনে করে সিকিম ও দার্জিলিং এর মানুষ পুজাও করে থাকে। বড়ই সর্বনাশের কথা।

ম্যান অফ এভারেস্ট (Man of Everest) বইয়ে তেনজিং নোরগে এটাকে বলেছেন তুষারের পাঁচ ধনদৌলত। সে তিনি যাই বলুক আমরা শুনব কেন? কারণ তিনি তো আর ধর্মের ভাই না আমাদের।

পত্রিকায় লিখছে কাঞ্চনজঙ্গা কাছে হওয়ার কারণেই বাংলাদেশের এই অংশে দ্রত শীত নেমে আসে। দেশভাগের নায়করা এই শীত ঠেকানোর পদক্ষেপ না নিয়ে মারা গেছেন এ জন্যেও আফসোস হয়। নিশ্চয় জীবনের আয়ু দুশো বছর হলে একটা সমাধান করে দিয়ে যেতেন যাতে হিন্দু দেশ থেকে হিন্দু মানুষ আসতে না পারার পাশাপাশি হিন্দু দেশের শীতও না আসে।

গত ২৮ অক্টোবর ভোরবেলা শৌখিন চিত্রশিল্পী ফিরোজ আল সাবা মুঠোফোনে এই ছবিটি তুলেছেন।

হিন্দু দেশ মুসলিম দেশ হবার কালে প্রভুভক্ত জাতির স্যার রেডক্লিফ যে সীমান্ত আঁকেন পঞ্চগড় জেলার সেখানে তিনদিকেই সীমান্ত ভাগ হয়ে হিন্দু দেশ মুসলিম দেশ হয়ে গেছে। ইতিহাসবিদরা বলছেন পাঁচ জঙ্গল কথাটি থেকেই এসছে পঞ্চগড় নামটি। এখন অবশ্য সেখানে বনজঙ্গল থেকে শুরু করে বন্য হাতী, অসংখ্য প্রজাতির পাখিসহ বিভিন্ন বন্যপ্রানী ও বাঘ সবাইকে উচ্ছেদ করে এক দিকে মুসলিম প্রাণী আরেক দিকে হিন্দু প্রাণী বাস করছে। নাম দিয়েছে মানুষ।

ইতিহাসবিদের বয়ান বলছে প্রাচীন ও মধ্যযুগে এই ভূখন্ডের সাথেই সীমান্ত ছিল মগধ, মিথিলা, গৌর, নেপাল, ভূটান, সিকিম ও আসাম রাজ্যের। হিন্দু মুসলিম প্রাণীর দখলে যাওয়ার আগে ভূখন্ডটি পর্যায়ক্রমে শাসিত হয়েছে প্রাগ- জ্যোতিষ, কামরূপ, কামতা, কুচবিহার ও গৌর রাজ্যের রাজা, বাদশা, সুবাদার এবং বৈকুন্ঠপুর অঙ্গ- রাজ্যের দেশীয় রাজা ও ভূ-স্বামীদের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে।

মৌর্য, গুপ্ত ও পাল (দেবপাল ধর্মপাল) তারাও শাসন করেছিলেন এখানে। ইতিহাসবিদরা আরো বলছেন, ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন খলজি তাঁর বহু বিতর্কিত তিববত অভিযানের এক পর্যায়ে পঞ্চগড় জনপদের ভেতর দিয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন।

পরে ষোড়শ শতকে কুচবিহার রাজ্য গঠিত হওয়ার পর থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পঞ্চগড় অঞ্চল মূলত কোচ রাজন্যবর্গের দ্বারাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শাসিত হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমান হিন্দুদেশের শাসকদের অধীনেই। পরে না ১৯৪৭ সালে মহান দেশভাগের পর না মুসলিম ভুখন্ড হয়ে উঠল সেটি। আচ্ছা এরপর ধুয়ে মুছে এই জেলাকে কি পবিত্র করে নেয়া হয়েছিল?

যদি তাই না হয় কিসের আবার গর্বের স্বাধীনতা দিবস? নিশ্চয় মুসলিম স্বাধীনতার গান গাইবো আমরা।

কিন্তু হিন্দু ভূমি থেকে ভাগ হওয়ার পরও এই পঞ্চগড় থেকে কেন কাঞ্চনজঙ্গা দেখা যাবে? সেই কারণে আমার কেন মন খারাপ হবে? কেন সব কাজ ফেলে বর্ডারের এই জায়গাতে বসে থাকতে ইচ্ছে করবে? কেন সীমান্ত উচ্ছেদ করে হিন্দু মুসলিম প্রাণীর বদলে পশুকে দেখতে ইচ্ছে করবে? আমি দেশদ্রোহী তাহলে?

এত কেন’র জবাব কি পাব দেশভাগের নায়কদের কাছে?

এই যে এত এত শাসক এলো গেলো এত বদল হলো সীমান্তের কোন ভূমি কতবার পবিত্র অপবিত্র হলো তার হিসেবও বা কার কাছে পাব?

Post a Comment

0 Comments