ভাষার জন্যে আত্মত্যাগ শুধু বাঙালির নয়

ভাষার জন্যে আমরাই শুধু রক্ত দিয়েছি কিংবা ভাষার জন্যে রক্ত দেয়া জাতি শুধু আমরা এটি ভুল প্রচার। আমাদের ত্যাগ গৌরবের ও মহান কিন্তু তাই বলে ভুল প্রচার করে যাওয়া সুন্দর নয়। গুগল করলেই তথ্য গুলো পেয়ে যাবেন। সহজের জন্যে উইকিপিডিয়ার লিংক দিলাম কমেন্টে।
লিম্বু জনজাতি পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন মাতৃভাষা আন্দোলনকারি জাতি। ১৭৪১ সালে নিজেদের ভাষায় নিজেদের দর্শন প্রচারের অপরাধে সিকিম রাজা লিন্মু জনজাতির নেতা এবং তাদের একরকম জাতির জনক সিরিজুঙ্গা (Te-ongsi Sirijunga Xin Thebe) এবং তার শ'খানেক অনুসারীকে নির্মমভাবে হত্যা করে। নেপালে লিম্বুভাষা নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। লিম্বু জাতির মানুষদের বাধ্য করা হয় বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করতে।
১৯৩৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ প্রদেশে হিন্দি ভাষা বিরোধী আন্দোলনে প্রাণ দেন একজন তামিল। সেটি ছিল উপমহাদেশে ভাষার জন্যে প্রথম আত্মত্যাগ। ১৯৩৮ সালে দুই আন্দোলনকারীকে জেলে নিলে তারা মারা যান সেখানেই। অভিযোগ ছিল পুলিশের দিকেই। ১৯৬৫ সেই মাদ্রাজে পুলিশের গুলিতে আবারো নিহত হয় ৬৮ জন।
১৯৫২ তে তেলেগুভাষীরা ভাষাভিত্কি পৃথক রাজ্য দাবি করলে এক আন্দোলনকারী অনশনে মারা গেলে তারপর সৃষ্ট দাঙ্গায় বহু মানুষ মারা যায়।
১৯৮৬ সালে গোয়া দমন দিউতে কঙ্কাই ভাষীরা তাদের ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন করলে পুলিশ গুলি চালালে মারা যায় ৭ জন।
১৯৯৬ সালে ১৪ মার্চ আসামের করিমগঞ্জে বিষ্ণুপ্রিয়া মনিপুরী ভাষার দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদার দাবীতে রেল অবরোধ করলে পুলিশের গুলিতে মারা যান ভাষা সংগ্রামী সুদেষ্ণা সিংহ।
১৯৬০ সালে অহমিয়া ভাষাকেরাজ্যের একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা করার সিদ্ধান্ত হলে বাঙালিরা প্রতিবাদে নামে। তখন আসামীয়দের হামলায় মারা যায় ৯ বাঙালি। পরের বছরই ১৯ মে সর্বাত্মক হরতাল পালনকালে আসাম রাইফেলসের সৈন্যরা আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালালে নিহত হয় ১১ জন। সে থেকে আসামসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে ১৯ মে ’বাংলা ভাষা শহীদ দিবস’ পালিত হয়।
আমাদের ত্যাগটা একটু ব্যতিক্রম। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে সৃষ্ট জাতীয়তাবাদের দ্বারা ধীরে ধীরে আমরা এগিয়ে গেছি স্বাধীনতার দিকে।
পৃথিবীর সকল ভাষা শহীদদের প্রতি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শ্রদ্ধা রইল।

Post a Comment

0 Comments