শততম দেশে বাঙালি মেয়ে!

দুনিয়াতে কেতারদুস্ত হওয়া খুব সোজা। বড় ডিগ্রী নিয়ে মোটা বেতনের চাকরি ধরে মুখে রুমাল এঁটে লজ্জা পেয়ে বিয়ে করে রান্না এটা ভাল হয়েছে, তেলে নুন কম হয়েছে, ভাবী আপনার ভাই নয়শ কুড়ি হাজার টাকার শাড়ি কিনে দিয়েছে বলা কিংবা বাচ্চাদের পরীক্ষার ছুটিতে কক্সাবাজার দু রাত এসি হোটেলে থেকে জীবন কি সুন্দর বলা আর আবার জীবনভর মগবাজার-মৌচাক দৌড়াতে থাকার জীবন সবার। সম্পদ ও সাফল্যের পেছনে ইঁদুর দৌড়

নাজমুন আপা অন্য ধাতুতে গড়া।



৩৮ বছর বয়সী নাজমুন নাহারের বিশ্বভ্রমণের শুরুটা ২০০০ সালে, ভারত ভ্রমণের মাধ্যমে। তখন তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষে পড়তেন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাঠ শেষে রাজশাহী থেকে ঢাকায় চলে আসেন নাজমুন। কিছুদিন সাংবাদিকতা করেন এক বিনোদন সাময়িকীতে। ২০০৬ সালে শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে চলে যান সুইডেন। লক্ষ্মীপুরের মেয়ে নাজমুন সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এশিয়ান স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেন। পড়াশোনার ফাঁকে খণ্ডকালীন কাজও করতেন তখন। কয়েক মাসের জমানো টাকায় জাহাজে ভ্রমণ করেন ফিনল্যান্ড।

তারপরই শুরু হয় তাঁর ভ্রমণ অধ্যায়ের অন্য পর্ব। সুইডওয়াচসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় খণ্ডকালীন চাকরি করেছেন। রোজকার খরচ বাদে যা জমান, তা নিয়েই পা বাড়িয়েছেন নতুন কোনো দেশে। বাংলাদেশের এই নারী ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ঘুরেছেন ৩৫টি দেশ। এ তালিকায় আছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, পেরু, চিলি, প্যারাগুয়েসহ দক্ষিণ আমেরিকার ১০টি দেশ। এই দুই সাল মিলিয়ে এটাকে তাঁর ‘ভ্রমণবর্ষ’ বলা যায়! শততম দেশ ভ্রমণের লক্ষ্যে সুইডেন থেকে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল গত ১১ মে। তিনি প্রথমে পৌঁছান আফ্রিকান দেশ ইথিওপিয়ায়। সে দেশ থেকে ১৭ তারিখ পৌঁছান কেনিয়ায়। এভাবে উগান্ডা, রুয়ান্ডা, তানজানিয়া, জাম্বিয়া হয়ে ১ জুন পা রাখেন জিম্বাবুয়ের মাটিতে

তিনি বললেন, ‘টাকা জমিয়ে মানুষ সম্পদ গড়ে। আমার স্বপ্নই নতুন কোনো দেশ ভ্রমণ।

প্রথম আলোর সংবাদের নিচে এক বাঙালি ভাই কমেন্টে করেছে, টাকার কাজকারবার।

তাকে বলার ছিল , ব্যাটা সবাই তোর মত বাপের ঐতিহ্য ধরে রেখে ট্রেডিশনাল বাঙালি না যে বউ বাচ্চার সেবা করে জীবন ব্যয় করে দেবে। টাকা সবার আছে মন নাই।

Post a Comment

0 Comments