পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া প্রসঙ্গ

পাকিস্তান ভৌগলিকভাবে বহুদূর। যারা বলেন দেশ পাকিস্তান হয়ে গেছে তাদের এই পাকিস্তান হওয়া কি জানতে বুঝতে আমি ওদের জানতে চেষ্টা করি। তাদের এই বক্তব্যের সাথে আমি বাস্তবতা মেলাতে পারি না। সাংস্কৃতিক ভাবে ও রাজনৈতিক ভাবে দিল্লীর প্রতি ঝুঁকে পরা দেশ তো ভারত হওয়াই সহজ নাকি! জানার ইচ্ছা হয় তারা কি ভাবে ১৬ ডিসেম্বর নিয়ে কিংবা ৫২ কে কিভাবে দেখে? আজ ডন পত্রিকায় গত বছর ১৭ ফেব্রুয়ারী প্রকাশিত একটা লেখা পড়লাম। শিরোনাম ‘1971 war: Witness to history’ লিখেছেন আলী উসমান কাসেমী যিনি লাহোর ম্যানেজমেন্ট সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের প্রফেসর।
তিনি কি সুন্দর করে বললেন ভিয়েতনাম যুদ্ধের জন্যে আমেরিকা যদি ক্ষমা চাইতে পারে পাকিস্তান কেন বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাইতে পারে না? তিনি এর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আমাদের যে ভাষ্য তার সাথে অনেকাংশে সহমত পোষণ করেছেন।
we need to know the details of what happened to the people of East Pakistan — especially during March 1971 and December 1971. It won’t take much to empathise with them and feel their agony and pain. As a starting point, as suggested by Salil Tripathi, the Indian journalist who has recently written The Colonel Who Would Not Repent: The Bangladesh War and its Unquiet Legacy, let us petition for a memorial to be built in Pakistan to honour all those who died or suffered during 1971. Germany has done this for the victims of the Holocaust and the United States has done the same for those who died in the Vietnam War. Why can’t we?
This article was originally published in the Herald's September 2015 issue
এবার দেখি ওদের বাচ্চাদের কি পড়ানো হয়, ৯-১২ শ্রেণীর ছাত্রদের বাংলাদেশের বিজয়কে দেখানো হয় ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে। তারা এটাকে পূর্ব পাকিস্তানের পতন বলে। এবং পতনের পেছনে কিছু কারণকে নির্দেশ করেছে।
পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনেক বেশি হিন্দু শিক্ষক ছিল যারা এমন সাহিত্য পড়াতো যা বাঙালিদের পাকিস্তান বিরুদ্ধ করে তুলে। তাদের দাবি ভারত পূর্ববঙ্গে বাস করা ১০ লক্ষ হিন্দুকে অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিশালী করতে পাকিস্তান ভাঙার ষড়যন্ত্র করে। হিন্দুরা ছিল ভারতের গুপ্তচর। আমেরিকাও পাকিস্তান ভাগ চেয়েছিল আবার রাশিয়াও প্রকাশ্যে ভারতের পাশে দাড়ায়। সূত্র : In-depth: What students are being taught about the separation of East Pakistan, Dawn, Huma Imtiaz , December 16, 2010
সেই লেখার আরো একটি মন্তব্য দিলাম, Pervez Hoodbhoy, a noted academic and Professor of Physics at the Quaid-e-Azam University in Islamabad, says, “Forty years later, Bangladesh has many disputes with India but it shows not the slightest inclination to reintegrate with Pakistan. If Pakistan's schoolbooks actually taught honest history, they would be explaining why East Pakistanis felt exploited and fought for their independence. Instead, our children are taught cock-and-bull conspiracy nonsense.”
রাষ্ট্র যখন তার নিজের পছন্দমত ইতিহাস শিখাতে চায়, জানায় তখন সেখানে বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্ম আরো বেশি ঘৃণার ভেতর বেড়ে উঠবে সেটাই খুব স্বাভাবিক। এই নোংরার ভেতর থেকে দু একজন শুদ্ধ মানুষ পেলে ভীষণ আনন্দ লাগে।
আমি শুদ্ধ মানুষদের নিয়ে এগোতে চাই। তাদেরকে দিয়ে সেই সমাজকে জানতে চাই বুঝতে চাই। বাংলাদেশের ৯৯ জন মানুষ অজ্ঞতার কারণেই বলে থাকে ভারতে আজান দিতে দেয়া হয় না, মসজিদ নেই তা আমিও জানতাম। সেই জ্ঞানের ভিত্তিতে যদি ভারতীয়রা বাংলাদেশকে দেখে তাহলে ঘৃণার চর্চা বন্ধ হবে কখনো?
আসুন জানি যা কিছু ভাল তার সংখ্যা কমই হয়। তাদের পাশে দাড়াই। কথা বলি। হাত বাড়াই। ঘৃণার চর্চা কমাই। প্রত্যেক দেশেই ‍শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ একত্রিত হই। বদলে দিই এই ঘৃণার জগত।

Post a Comment

0 Comments