৬৫ দেশের ৬৫০ শহর ঘোরা হলো তার

৩৮ বছর বয়সেই তানভীর অপু নামের ছেলেটা ঘুরে ফেলেছে ৬৫ দেশের ৬৫০টি শহর। তার আবার কোন নির্দিষ্ট চাকরিও নেই। কখনো পানশালায় কাজ তো আবার কখনো জাহাজের রেস্তোরাঁয়। মাঝে কিছুদিন নিজেই একটা রেস্তোরাঁ খুলে পরে সেটাও ছেড়ে দেন।

কয়েক বছর ধরে ফিনল্যান্ডে থাকেন তিনি। সেখানে নাগরিকত্বও পেয়ে গেছেন।

ভাইয়ের ভাষায়, ‘আমার সম্বল বলতে কিন্তু কাজ। পরিশ্রম। খণ্ডকালীন বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হই। পয়সা জোগাড় হলেই বেরিয়ে পড়ি ঘুরতে। ভ্রমণের জন্য মনের ইচ্ছেটা জরুরি, অর্থ নয়। আমি সস্তা হোটেলে রাত কাটাই, সস্তা খাবার খাই, প্রচুর হাঁটি। নতুন একটা শহর হেঁটে হেঁটে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলি। জীবন সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি।’



ভাইয়ের বাড়ি রাজশাহী। তার মা মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক পদে চাকরি করতেন, বাবা ইব্রাহীম আলী দেওয়ান ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক। দুই ভাই, এক বোনের মধ্যে সবার বড় অপু। রাজশাহীতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তি হয়েছিলেন নবম শ্রেণিতে। বিকেএসপির হকি দলের খেলোয়াড়ও ছিলেন। ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের হয়েও হকি খেলেছেন কয়েক বছর। এই ফাঁকে উচ্চমাধ্যমিক শেষে ভর্তি হয়েছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্নাতক পড়ার সময়টাতেই চলে যান ফিনল্যান্ডে। ২০০৫ সালের কথা সেটা।

ফিনল্যান্ডে যাওয়ার পরই ঘোরাঘুরির শুরু।। ফিনল্যান্ডের বাইরে তাঁর দেখা প্রথম দেশ ছিল এস্তোনিয়া। এরপর গেলেন সুইডেনে। তারপর ২০০৬ সালেই বন্ধুদের সঙ্গে গাড়িতে পাড়ি দিয়েছেন হাজার হাজার কিলোমিটার। সেবার ইউরোপের বেশ কয়েকটা দেশ ঘুরেছেন।

সেই যে ভ্রমণযাত্রা শুরু হলো, তা এখনো চলছে। তাঁর ভাষায়, ‘পুরো পৃথিবীটাই আমার কাছে দেশ। বিশ্বটা ভাগ করেছে মানুষ। আমি ভাগ হতে চাই না।’

ভাই বললেন, ‘বিভিন্ন দেশ ঘুরে আমার হয়তো অর্থ ফুরিয়েছে, কিন্তু জমে আছে অনেক গল্প। বিচিত্র সৃষ্টির ছবি-ভিডিও। এগুলোই আমার সম্পদ। এসবই আমি স্কুলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের দেখাতে চাই। ভ্রমণে আগ্রহী করতে চাই। স্বপ্ন দেখাতে চাই।’

Post a Comment

0 Comments