ভারত যাওয়ার যে কথা জানে না কেউ

ভারত যাওয়ার যে কথা জানে না কেউ

কলকাতা যাব। পাসপোর্ট নেই। বাবা দায়িত্ব নিলেন। ৫ দিন আগে থেকে ছবি তোলার কড়া নির্দেশ। যখন পাসপোর্ট অফিসে যাব তার ১০ মিনিট আগে ছবি তুলতে গেলাম। ছবি বাবার মনমত হলো না। ফলাফল, তোর যেতে হবে না আর আমিও বিদ্রোহ করে চলে আসলাম।
দ্বিতীয় দফায় বাবা পাঠালো আংকেলের সাথে। আংকেল একবার বললেন ফর্ম বাংলায় জমা দাও তো ওরা জমা নেয় না। এবার ইংরেজীতে জমা দিতে যাই তো ওরা নেয় না। এভাবে ৫ টা ফর্ম নষ্ট হলো। সমস্যটা হলো দালাল ছাড়া ফর্ম জমা নিবে না। ওই আংকেল থেকে টাকা ফেরত নিতে গেলাম। ব্যস মেরে দিল ২ হাজার টাকা।
ভিসা করতে দিয়েছি দূতাবাসের সামনে দালালের কাছে। ১ মাস পর পাব। রাতে তনয় নামে এক ছেলে নক করল। সে ভারতীয়। কথায় কথায় আমি কলকাতা যাওয়ার কথা আসল। সে বলছে, ৩ দিন পর ভিসা পেয়ে যাব। একটু পর বাসায় চলে ও আসল।
রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ”ভারতনাট্যম” কোর্স করতে যাচ্ছি মর্মে একটা কাগজ ও জোগাড় করে দিল। জমা দিতে গিয়ে দেখছি ডলার এন্ডোর্স করতে হয়। ১৩ হাজার টাকাতে ১৫০ ডলার করে নিলাম স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার ট্রাভেল কার্ডে। পাসপোর্ট জমা দিলাম, সেই কার্ড আমার কাছে।
দুদিন পর রাতে তনয় বাসায়। আমার আগে কখনো এসব কার্ড ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা নেই তাই সে পিন এর কাগজটা খুলে পিন ওর ফেবুতে মেসেজ করল আমার ফোন থেকে। বলল, যাতে আমি ভুলে গেলেও অসুবিধে না হয় তাই এই ব্যবস্থা।
ভিসা পেয়েছি। রাতে ঢাকা যাব। পরদিন রাতে কলকাতা। বাসায় এসে খুঁজছি ট্রাভেল কার্ড। পাচ্ছি না। না তনয় এত ভাল তাও ভারতীয় ও নিতেই পারে না। হারিয়ে ফেলেছি ভেবেই ঢাকার বাসে উঠে পরলাম। ওদিকে তনয়ের ফোন অফফ। ভারতীয় স্টেট ব্যাংক চট্টগ্রাম শাখায় কল করে একাউন্ট চেক করলাম। ৪৩০ টাকা আছে বলল। তনয় জানাল সে ঢাকাতে। ওর এক বন্ধুকে কল করলাম। ছেলেটা তনয়কে কলকাতার বাসে তুলে দিয়েছে এর আগের দিন। যাওয়ার আগে একটা ট্রাভেল কার্ড অনেক এটিএমে ট্রাই করেছে।
পরের বছর খবর পেলাম ও অাবার চিটাগং এসেছে। অারেক লোককে ঠকাতে গিয়ে ধরা পরল। জানা গেল বাড়ি সাভার।
আরামবাগ থেকে বাসে উঠলাম। যাচ্ছি তো ডাক্তার দেখাতে কিন্তু আমার কাছে আছে ট্রেনিং ভিসা তাও ভূয়া। বাংলাদেশের ডাক্তারের সব কাগজ ফেলে দিলাম। পরে কলকাতায় ডাক্তার দেখাতে গিয়ে বকা শুনলাম্। কিন্তু ঘটনা হলো, যেই ভিসাতেই যাওয়া হোক যা খুশি কাগজ নেয়া যায়।
ভারতীয় ইমিগ্রেশনে পাসপার্ট দিলাম। কিসের ভিসা জানতে চাইল। কেন এক্স লিখা। ট্রেনিং ভিসা্। তাহলে ট্রেনিং কোথায় আর ইনভাইটেশন লেটার কই। ওমা সেকি! তনয় তো এরকম কিছু বলেনি। ফোনে ছবি ছিল। ওটা দেখে ছাড়তে রাজী না। ভারতের ভেতর ঢুকে পরার অনুমতি দিল। অনেক দোকান ঘুরেও প্রিন্ট করার দোকান পেলাম না। এক প্রকার হাত জোড় করে এক দোকানে প্রিন্ট নিলাম। ওদিকে ফোনে চার্জ ছিল না্। বন্ধ হয়ে গেলে এরেস্ট করার ভয় করছিল।
এবার জেরা বাংলাদেশে নাচ করি কিনা। কবে ফিরব। উতরে গেলাম। ভাগ্যিস ”লে পাগলু ডান্স” টা্ইপ কিছু বাজিয়ে নাচতে বলেনি।
ভারতে ঢুকে পরেছি। ৯৯ টাকা ছিল। দুজন দালাল ধরে নিল। কত দিল জানি না্। তবে সেখানেও ঠকেছি নিশ্চিত। পরিচিত লোক থেকে টাকা রুপি করে নিলে দেড় থেকে দু টাকা দালালদের থেকে বেশি দেয়।
হাওড়া ব্রিজের ছবি ভাইয়াকে উঠাতে বললাম। পুলিশ মোবাইল কেড়ে নিল। পুলিশ ভ্যানকে কল করছে ভাব নিল্। ৫০০ টাকাতে দফারফাতে রাজী। ভাইয়া ২০০ দিল। সে এবার আবার ধমকের সুরে পুলিশ ভ্যান ডাকার ভাণ ধরর। পরে টাকাটা নিয়েও ফেরত দিল ভাইয়ার অন্তর শুদ্ধ করার কথায় লজ্জা পেয়ে।
নদীয়ার বর্ডারের ভেতরে গেছি। ভিসাতেই লিখা বর্ডারের ভেতর যাওয়া যাবে না। গেছি তো গেছি একেবারে বিএসএফ এর বর্ডার লাইন ধরে আরো ২০ ফুট ওদিকে গেছি। আর কয়েক পা দিলেই বাংলাদেশ। বিএসএফ অস্ত্র হাতে দাড়িয়ে। আমি সামনে দিয়ে যাচ্ছি। বর্ডার লাইনের পরে দেখলাম ১৫-২০ জন বিএসএফ খোলা তলোয়ার নিযে ছুটোছুটি করছে। চোখেমুথে হিংস্রতা। পেলেই গলা ফেলে দিব।
ওরা ভাবল এই বর্ডারে ভারতীয় না হলে তো ওরকম কেউ আসবে না ভয়েও্। বেচেঁ গেলাম। আমার এখনো মনে হয়, সীমান্তবাহিনী ভিসার ভাষা বোঝে না।
শিয়ালদহের লোকাল দোকান থেকে সানস্লিক শ্যাম্পু কিনব। গোলাপি ছাড়া কয়েকটা রঙের পেলাম। জানাল, গোলাপী পুরো ভারতেও আমি খুজেঁ পাব না। পন্ডস এর ক্রিম চাইলাম যেটাতে স্পট রিডিউস লিখা। সে যেটা দিল ওটাতে পেলাম না। এবার জানাল, ওরকম আগে পাওয়া যেত এখন না। কিনে নিলাম তাও। শিয়ালদহ স্টেশনের সামনে বিগ বাজারে গেলাম। গোলাপী রঙের সানস্লিক পেলাম। পরে বাসায় এসে দেখি সেই ক্রিমেই লিখা স্পট রিডিউস।
ভারত থেকে ফিরব। বর্ডারে আটকেছে। কেন গেছি। ভারতনাট্যম পারি কিনা। ওখান থেকে পালানো ও যায় না। না! পারি বলার পর ছেড়ে দিল।
বাসে থেকে রাত ১ টায় নেমে ভাইয়ার বাসায় আসব। ওয়ারী থানা পুলিশ আটকাল। ভারতে কেন। ডাক্তার দেখাতে। ইউরিন এর প্রবলেম। মজা পাইছো? দেশে কি ইউরিন এর ডা্ক্তার নেই যে ভারত যেতে হয়? ছোট করে বললাম, দেশে কি চ্যানেল নেই যে আপনাদের বউ স্টার জলসা দেখে। ব্যাগ দেখে যেতে দিল।
ভারতের পুরোনো ৫০০-১০০০ এর নোট বাতিল করা হয়েছে। জরুরী নিতে হবে সেগুলো। ব্যাগের ফিতায় দর্জি দিলে লুকিয়ে নিলাম। না বোঝা যাচ্ছে। বর্ডারে এসে একটা কোচের লোককে বললাম। বলল, কিছু টাকা তাকে দিতে হবে পার করে দিবে। নিজেই সেই রুপি নিলাম। না আটকাল না! দেখেইনি।
তবুও ভালবাসি কলকাতা...

Post a Comment

0 Comments