তোমরা যারা ভাবছো ‘এই জীবন রেখে কি লাভ!’

জীবন যা শেখায় না’ শিরোনামে প্রথম আলোর অধুনা পাতায় একটা লেখা ছেপেছে। লেখাটার সাথে আমার কথার পুরো মিলে যায়। পয়েন্টগুলো আমার মত করে লিখলাম।
১. বন্ধুদের সাথে আজ দারুণ সময় কাটাচ্ছেন। ধরে নিই কাল আপনার নতুন চাকরি হলো কিংবা ওই সময় আপনি বিদেশে আছেন। তাদের আড্ডা থেমে থাকবে? কিংবা তাদের আনন্দের কোন কমতি হবে? না এর কোনটাই না। কোন জায়গায় আসলে ফাঁকা থাকে না। তাই আমি বন্ধুত্ব বলতে শুধু আবেগ দিয়ে বুঝতে পারি না। রোজকার জীবন কাটাতে যাদের নিয়ে এগোতে হয় তারাই বন্ধু। কাল নতুন জীবন শুরু হলে নতুন কেউ বন্ধু হবে। এগুলো সিরিয়াসলি নেয়ার কিছু নেই।
২. জীবনে কোন অবস্থায় চূড়ান্ত নয়। না কোন ভাল লাগ না ভাল লাগার মানুষ। তাই কারো প্রেমিকা চলে গেলে সেই দুঃখে সিগারেট খাওয়া শুরু করার কিছু নেই। সব কিছুকে সময়ের উপর ছেড়ে দিতে হবে। এক সময় দেখা যাবে সেই প্রেমিকা চলে গেছে সেটা মনে করতেই বেশ হালকা লাগছে। সব সময় ভিন্ন পরিস্থিতির জন্যে মনকে তৈরি করে রাখা চাই।
৩. কিছু জিনিস প্রতিযোগীতায় নেমে শেখার যায় না বা অর্জন করা যায় না। এগুলো ব্যক্তিভেদে ভিন্ন। সেগুলো নিয়ে হতাশ হবার কিছু নেই। আপনার আমার সবার বেড়ে উঠা ভিন্নভাবে। সবার চারপাশের পরিস্থিতিও ভিন্ন। তাই আপনার আগে কাছের বন্ধু স্কলারশিপ নিয়ে সুইডেন গেলে নিজেকে ছোট মনে করবেন না। বরং চেষ্টা করুন তার সাথে ভাল সম্পর্ক রাখতে। নিজের সাফল্য সব সময় নিজের যেমন নিজের কোথাও ব্যথা লাগলে সেটার ভাগ অন্য কেউ নিতে পারে না। তাই ব্যক্তিগত জিনিস ব্যক্তিগতই রাখুন। ছড়িয়ে দেবেন না।
৪. টাকা পয়সার ক্ষেত্রে আরেকজনের দিকে পথ চেয়ে থাকবেন না। বলতে কেতাবী শুনালেও যত টাকা দরকার আপনার তা যে কোন কাজ করে আয় করুন। সে কাজ এবার সমাজ ছোট ভাবুক আর মহান। নিজের অর্জিত টাকা খরচের আনন্দ পেতে শিখলে কারো মুখাপেক্ষী হবেন না। অর্জিত টাকাতে কেতারদুস্থ হওযা মানে ঘরে দামি ফার্নিচার কেনার চেয়ে মনকে তৃপ্ত করতে যা দরকার তা করুন। জীবনে জাগতিক জিনিস স্থায়ী হয় না। স্থায়ী হয় স্মৃতি। সেগুলো সংগ্রহ করতে খরচও বেশি হয় না।
৫. কষ্টের সময় জীবনে আসবে। সমাজের নানান অব্যবস্থাপনার কারণে বিপদে পরতেই হবে। হয় আজ পুলিশ আপনাকে উঠিয়ে নিয়ে গেল তো কাল উত্তরবঙ্গের কোন জেলায় ট্রাক খাদে পরে গেল। কপালে থাক না থাক কারো না কারো সাথে এরকম হবে। সেই শোক জীবন থামিয়ে দেয় না। ধীরে ধীরে সব শোক চাপিয়ে মানুষ বাবা মা মারা গেলও পৃথিবীতে বেঁচে থাকে। হাসির কিছু দেখলে হেসে দেয়। তাই কষ্টের দিনকে সিরিয়াসলি নেয়ার কিছূু নেই।
৬. সব সময় কেতারদুস্ত চিন্তায় এগোতে পারবেন না। মাথাটা খাটাতে হবে। সবার মত ভাবা বা করা খুব সহজ। নিজেকে আলাদা করতে হলে সবার চেয়ে আলাদা কিছু করতে হবে। অনেকেই এখনো অমুক বইটা কতরে , কই পাব , আমার জন্যে নিয়ে আসিস তো শহরে গেলে বলছে। অন্য কেউ রকমারিতে অর্ডার করে পড়ে নিচ্ছে। ওই লোক তখনো শহরে যায়নি। ভিন্নভাবে ভাবুন। ভিন্নভাবে দেখুন্ বিরক্তিকর জীবন থেকে বেরিয়ে আসুন।
৭. মোটাদাগে বলতে গেলে সাফল্য ব্যর্থতা বলতে কিছু দেখি না। পৃথিবীতে এসেছি একদিন চলে যেতে হবে। এর ভিতর ইগো বা সামাজিক চাপের কারণে নিজের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে অমুকটা পেতেই হবে ভেবে জীবন ও যৌবন শেষ করা কখনোই সাফল্য নয়। সেই সাফল্য অর্জন করে কলার উঁচু করে চলাও সাফল্য নয়। সেই জীবন ভেড়ার জীবন। ভেড়াই একমাত্র আগেরজন যেদিকে গেছে সেদিকে ছুটে। এই রঙিন সাফল্যের চেয়ে জীবনকে উপভোগ করে মরা জরুরী। সেটা নিয়ে দিনে কুড়ি সেকেন্ড হলেও ভাবুন।
৮. কেউ বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ডিগ্রী নিলেই তার বাণীকেই বাংলাদেশের সংবিধান ভাববেন না। যতক্ষণ অন্যের উপর মানসিক কিংবা শারীরিক আঘাত না হচ্ছে ততক্ষণ নিজের যা পছন্দ করুন। কেউ রকেট সাইন্স নিয়ে পড়তে বললেও আপনার উগান্ডার ইতিহাস পড়তে ভাল লাগলে সেটাই পড়ুন। জীবন চাপিয়ে দেয়ার জন্যে নয়। উপভোগের জীবনে নিজের মত কাটান প্রতিটা সেকেন্ড।
৯. ফেসবুককে সিরিয়াসলি নেয়ার কিছু নেই। আগে নিজের মূল জায়গটা শক্তপোক্ত করুন। তারপর আসুন ফেসবুকে। সবার সাথেই ঘনিষ্ঠ হতে হবে আর না হলে চাকরি থাকবে না ব্যাপাখানা এমন না। ফেসবুককে ফেসবুকেই রাখুন। ব্যক্তিজীবনে টেনে আনার চেষ্টা বাদ দিন। কাছের কারো স্পর্শের চেয়ে ফেসবুকের লাইকের স্পর্শ খুব বেশি আনন্দ কি দিতে পারে? চিনুন নিজের কাছের মানুষকে। দূরের মানুষকে কাছে আনতে বাড়াবাড়িতে নামবেন না।
১০. কারো উপর নির্ভরতার প্রয়োজন হলে নির্ভর করবেন কিন্তু সেটাকেই স্থায়ী রুপ দিবেন না। নিজের পথ মত নিজের মত করে তৈরি করুন। নিজের বাপ নিজের বড় ভাই কিংবা নিজের জামাইয়ের টাকাতে নিশ্চিন্তে থেকে নিজেকে মুই কি হনুরে ভাববেন না। নিজের পায়ের নিজে মাটি শক্ত করুন। ভাবুন তাদের ছাড়া পৃথিবীতে আপনার অবস্থা কোথায়।

Post a Comment

0 Comments