কুমিরা টু বাশঁবাড়ীয়া বিচ

জীবনের কতটা সময় চলে গেছে তা কি আর চার দেয়ালে বসে বোঝা যায়? আজ বেরিয়েছিলাম আজানের পর পরই। সাগর পাড়ে দাড়িয়ে পূর্ব দিকে সারি সারি পাহাড়ের কোল থেকে সূর্য উঠা দেখতে। বেরসিক বৃষ্টি বাধ সাধল। জেলেদের জীবন ভীষণ টানে। ভোর নামা মানেই জেলে পাড়ায় জীবন ব্যস্ত হয়ে উঠে। ওগুলো কাছ থেকে দেখতে দেখতে মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে আহা আমিও যদি জালে(মাছ ধরতে যাওয়া) যেতাম। কোন নাগরিক ব্যস্ততা ছাড়া সমুদ্রে ভাসার একটি জীবন কল্পনাতে অনেকেরই আছে।

তখন বৃষ্টি সরে গেছে। সীতাকুন্ডের কুমিরা বেড়িবাধঁ ( কুমিরা ফেরীঘাট বা সন্দ্বীপ ফেরীঘাট) হয়ে হাটছি আকিলপুরের দিকে। মনে পড়ছিল শৈশবে তো এ্ই কাদা মাটিতেই গড়াগড়ি দিতাম। স্কুলে না যাওয়া মানে সাগরে আসা উচুঁ থেকে নীচে যে পাড় গুলো আছে সে মাটি লেপে পিচ্ছিল করে গড়াগড়ি দেয়া।আচ্ছা কখনো কি মনে হত এসব সুন্দর? না!

সাগরে জোয়ার আসার অপেক্ষা করা হতো দলবেধে। জোয়ার আসলে গোসল করার কি এক পাগলামো ছিল তখন। শুধু এখনের মত জোয়ারের গর্জন অনুভব করা হতো না্।

বেড়িবাধ থেকে পশ্চিমে তাকালে বিশাল সাগর আর পূর্ব দিকে তাকালেই পাহাড়ের দেশ। তাকিয়ে থাকতে খাকতে কষ্ট তৈরি হয়। কোথায় যেন বিরাট এক শূণ্যতা।

আকিলপুরে বেড়িবাধ ভেঙে গেছে । হাটতে হয় বালুচরে। বালুচর এরপর ফসলি মাঠে তারপর লোকালয় আর ওটার উপর মাথা উচুঁ করে দাড়িয়ে আছে পাহাড়। সব কিছু দেখতে কেমন অচেনা লাগে। আমার শৈশবের দিনগুলি কে ছুয়েঁ দেখতে ইচ্ছে করে খুউউব।

আরে উত্তরে হেটে গেলে বাশঁবাড়িয়া। এদিকে ঝাউবন আছে। সবে কক্সবাজারের মত বিশাল না হলেও বেশ দারুণ। তখন জোয়ার ছিল না। সাগরে নেমে যাওয়ার কোন উপায় নেই। এদিকে নতুন একটা ব্রিজ হয়েছে। ব্রিজ বলতে আমরা যা বুঝি ওরক আহামরি কিছু না। মাটি থেকে তিন কি চার ফুট উচুঁতে ৩ বা ৩ হাত চওড়া একটি লোহার পাটাতন বসিয়ে দেয়া হয়েছে। সোজা চলে গেছে সমুদ্রে।

ওটায় হাটা শুরু করে একেবারে শেষ মাথায়। ওখান পানি আছে। পা দুটো ডুবিয়ে দিলাম। আহা জীবন কত সুন্দর। মিষ্টি রোদ গায়ে লাগছে সামনে বিশাল সমুদ্র পেছনে পাহাড় কন্যারা আর উপরে সাদা আকাশ। ইচ্ছে করছিল ইশ যদি থেকে যাওয়া যেত এভাবে...

অনেকেরই মন খারাপ থাকেতে পারে দুজন থাকলে চলে আসা যায়। জোয়ার থাকলে ব্রিজটা ডুবে যায় তাই অল্প জোয়ার থাকতে নয়তো জোয়ার না থাকতে আসলে ব্রিজে বসে জোয়ারে পা ছড়িযে ভাবতে থাকুন, জীবন কেন সমুদ্রের মত বিশাল না?


Post a Comment

0 Comments