সরফভাটার সফর

জিইসি এসে ভাবছিলাম যাব কোথায়। নাদিম ভাই বললেন নতুন ব্রিজ থেকে পারকির চর কাছেই। গুগল ম্যাপেও দেখলাম তাই। অন্যদিকে কদুরখিলে মন পড়ে আছ কতদিন। কদুরখিলের দিকে যেতে অসুবিধা হলো রাস্তার পুরো কাজ না করায় রাস্তার দুই পাশে বালি জমে আছে। সাইকেল চালাতে খুব অসুবিধা।
কালুরঘাটের কাছাকাছিও অবস্থা খারাপ। নদী থেকে বালু তুলে এলোমেলো করে রাখা চারদিকে। সেতু পার হয়ে পশ্চিম কদুরখিলের দিকে গেলাম। রিভারভিউ পার হওয়ার পর গ্রামের ভেতর ঢুকে গেল রাস্তা। বিশাল বিশাল বিলের মাঝখান দিয়ে রাস্তা চলে গেছে। কোথাও কোথাও আবার পাশে বয়ে গেছে কর্ণফুলী।
এদিকের গ্রামগুলো শহর থেকে অনেক দূরে। খুব নির্জন। লোকজনের হাটাচলাও তেমন নেই। বাজার ঘিরেই সব ব্যস্ততা।
চরণদ্বীপ, খরণদ্বীপের পর তিন চারটা বড় বাজার(গোলক-কানুন)পেরিয়ে চলে গেছি সরফভাটা জ্যৈষ্ঠপুরা ভান্ডালজুড়ি সড়কে।
সেখানেই পাহাড়ের শুরু। বিশাল উঁচু রাস্তার এক পাশে পাহাড় আর অন্য পাশে চিড়িঙ্গাখাল খাল বয়ে গেছে। সন্ধ্যা নামায় গরু নিয়ে ফিরছে লোকজন। মিনিট পনের যাওয়ার পর আর লোকজনের দেখা না পেয়ে ফিরতে হলো উল্টোপথে।

প্রায় অন্ধকার নেমেছে। রাস্তা খানাখন্দকে ভরা। সাইকেলের সামনে আলোর ব্যবস্থা থাকায় অসুবিধা হচ্ছিল না। অর্ধেক পথ আসার পর চার্জ ফুরোলে। রাস্তাও চিনি না। লোকজনও নেই তেমন। মোড় পেলেই দক্ষিণ দিকে চলেছি। বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকার সবটা। বাজারের দিকে এসে একটা দোকানে লাইট চার্জ করে আবার চলতে শুরু করি।
জানতাম কদুরখিল হয়ে ফিরছি। ব্রিজের কাছাকাছি এসে দেখি উল্টোপথে এসছি। অন্ধকারের ভেতর পথ হারিয়ে ফেলেছিলাম। গুগল ম্যাপে দেখলাম উল্টো দিকের এই পথটা ছিল গোমদন্ডীতে।
গুগল ম্যাপ বলছে ৩৬ কিলোমিটার মত ঘুরেছি। কিন্তু পথের হিসেবে আরো বেশি। পকেটে আট টাকা মাত্র ছিল। পেঁয়াজু আর সাইকেলে হাওয়া দিতে গিয়ে সেটাও গেল। ছিল শুধু সফরভাটার রাস্তার শেষ দেখতে না পারার আফসোস। সেটা রেখে এসছি। যাব আবার।

Post a Comment

0 Comments