হিন্দি ভাষা কেন জনপ্রিয়?

হিন্দি ভাষার ব্যাপারটা কি?

সোমবার দুপুর নাগাদ বাংলাদেশে ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল প্রতিষ্ঠান জি নেটওয়ার্কের সব চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ হয়ে গেছে। পর্যায়ক্রমে দেশে সম্প্রচার হওয়া বিদেশি সব চ্যানেল বন্ধ করা হবে। দেশের ৩০টি চ্যানেল ছাড়া বিদেশের কোনও চ্যানেল আর দেখা যাবে না বলে সূত্রের বরাতে জানিয়েছে বাংলাট্রিবিউন।
তবে একটা ব্যাপার কখনোই বুঝি নাই। হিন্দি ভাষার ব্যাপারটা কি?
হিন্দি ভাষাটা বাংলা থেকে অনেক দূরের একটা এলাকার ভাষা হলেও হিন্দি মানুষের মধ্যে জায়গা করে নিল। এমনভাবেই জায়গা করে নিল হিন্দ্রিপ্রেম রীতিমত নিষিদ্ধ করার জায়গায় চলে গেছে। কিন্তু সিনেমা, নাটক এসব আরবী ভাষাতেও হয়। উপমহাদেশে আরো শত শত ভাষাতেও হয়। সেগুলো কোনভাবেই মনে গাঁথে না। অথবা ভাষা বুঝতে না পারার কারণে এগুলো মানুষ দেখেই না। এ কথাটাও জোর দিয়ে বলা চলে না। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের সিনেমাও প্রচুর দেখে দেশের লোকজন। কেউ কখনো একটা শব্দও শিখতে পেরেছে মনে হয় না।
হিন্দির এই প্রভাব বিস্তারের কারণ কি? ভাষাটা সহজ? সহজে মনে ধরে? শব্দগুলো বাংলার কাছাকাছি তাই? তেমনটা হলে উড়িয়া, অহমিয়া ভাষাই বেশি কাছাকাছি।
ভাষাবিজ্ঞান (Linguistics) হিন্দি, বাংলা, মারাঠি, ওড়িয়া, পাঞ্জাবি ও উর্দু একই ভাষা পরিবারের সদস্য। ওদিকে কন্নড়, তামিল, তেলেগু মালায়লাম দ্রাবিড়িয়ান পরিবারভুক্ত। আর থাকলো মণিপুরী, মৈথালি ও হিমালেশ। এগুলো ত্রিবেদো বর্মন পরিবারের সদস্য।


এই ভাষার প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে তো আছেই বাংলাদেশ আলাদা হওয়া রাষ্ট্র স্বত্ত্বেও এড়ানো গেল না। ভারতে তো রীতিমত হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে দেখানোর তোড়জোড় চলে।
কদিন আগে ড. ভোলানাথ তেওয়ারি নামে উত্তর প্রদেশের এক ভাষাবিজ্ঞানীর ‘ভাষাবিজ্ঞান’ বইটা নিলাম। হিন্দি ভাষা নিয়েও তার কাজ ব্যাপক। এই বইটাও হিন্দি ভাষার কাজে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়। হিন্দিকে জানা বোঝার চেষ্টায় বইটার পাশাপাশি ইউটিউব সাহায্য করবে।
একটা সময় অবশ্য হিন্দি বিরোধীতায় খুব কথা বলতাম। ভেলোর গিয়ে সেই বি
তার জায়গায় ছাড় দিয়েছি। হিন্দিই যদি না জানতাম তামিলদের সাথে চালিয়ে নিতাম কি করে? ভাষা তো ঘৃণার জিনিস হতে পারে না। আধিপত্যবাদ আলাদা বিষয়।

Post a Comment

0 Comments