দু চাকায় পারকি

অফিস থেকে ফিরতেই মধ্যরাত। সেহেরি খেতে ঘুম থেকে উঠার মত অবসর আর নেই। সেহেরির পর আরেক অসুবিধা। ঘুম আসতে সকাল দশটা। সকালে ঘুমিয়ে উঠতে সন্ধ্যা। তাই কোথাও যাওয়ার উপায়ও নেই।
মাকে বললাম বের হবো। কয়েকটা ধমক দিয়ে দরজা খুলে দিলেন। বের হয়ে ভাবছি যাব কই। কাপ্তাই যাব যাব করছি বহুদিন কিন্তু সুযোগ নেই। এর উপর সাইক্লিস্টদের গ্রুপের পোস্টে দূরের ট্যুর বিষয়ক নানান নির্দেশনা দেখে ভয় পেয়েছি। এটা লাগবে সেটা লাগবে। এত কিছু করে কি আর যাওয়া যায়?
বহদ্দারহাট পর্যন্ত গিয়ে ভাবলাম পারকি সৈকতে যায়। সেহেরির পর রাস্তা পুরো ফাঁকা। পুলিশের পোশাকে যেসব লোকজনের ভয় পাই তারাও রাস্তায় নেই। রিয়াজউদ্দিন বাজারে তখন তুমুল ব্যস্ততা। গ্রাম থেকে আনা পণ্য নামানো হচ্ছে। আরো এগিয়ে নতুন ব্রিজ মোড়েও ব্যস্ততার শুরু। নদীর কারণেই ব্যস্ততা। দূরের যাত্রার মানুষ ভোর বেলায় ভীড় করেছে। পণ্য নিয়ে ব্যস্ততা তো আছেই।
কর্ণফুলীতে এ সময় জল থাকে না। ব্রিজ থেকে পূর্ব দিকে তাকালাম। জাহাজ ও ফ্যাক্টরির আলো ছড়িয়ে পড়েছে কর্ণফুলীতে। মনে পড়ল আরাকানের রাজা কিংবা মুঘল আক্রমণকারীদের কথা। তারাও চট্টগ্রাম আক্রমণ করতে গিয়ে এই কর্ণফুলীর বাঁধায় পড়েছে। এই ভাবতে ভাবতে ক্রসিং হয়ে লোকজনের কাছে জানতে চাইলাম পারিক চর কই? লোকজন চেনে না তেমন। চৌমুহনী যেতে বলল একজন। মইজ্জ্যারটেক থেকে ডান দিকে চললাম। তখনো অন্ধকার কাটেনি। লোকজন রাস্তায় নেই। সেহেরির পর ভাতঘুমের নীরবতা চারদিকে। চৌমুহনীর কাছাকাছি আসতেই আলো হলো। ভেতরের দিকে চালাতে গিয়ে চোখে পড়ল পাহাড়। বিদেশী কোম্পনির কাছে পাহাড়ী এলাকা গুলো দেয়া হয়েছে। কি সব অর্থনৈতিক কাজ করবে। যে পাহাড় সৃষ্ঠির ক্ষমতাই নেই সেটাই ধ্বংসের আয়োজন আর কি। কাফকো সড়কে পুকুরের পাশে কৃষ্ণচূড়া গাছ চোখে পড়ল। হলুদ আর লালের মিলন।


এদিকে জায়গার নামগুলো সুন্দর। পথে ঠিক কোন রাস্তা পড়েছে মনে নেই। বৈরাগ, বড় উঠানের কথা মনে আছে। অদ্ভুত কারণে কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ের নামগুলো সব ভাল লাগে।
পূর্ব দিকের রাস্তা ধরে গ্রামের পথ হয়ে পৌছে গেলাম পারকি সৈকতে। বেড়িঁবাধ নেই এদিকে। ছোট একটা রাস্তা। পূর্ব পাশে ধানি জমি। আর পশ্চিমে চরের মত জায়গা। সেখানেও অল্পবিস্তর চাষবাষ হয়েছে।
বিভিন্ন দালান কোঠা বাানানো হয়েছে পর্যটকদের জন্যে। এসব করেই সৈকতের সৌন্দর্য অর্ধেকটা শেষ করা হয়েছে। উপায়ও নেই। সুন্দর বলেই ছুটছে লোকজন। ভেতরে গিয়ে দেখি সৈকতে থাকা সকল স্থাপনা ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে।
বালু ঠেলে নিতে হলো সাইকেল। তারপরের জায়গাটা শক্ত। জোয়ারের কাছাকাছি গেলাম। কটা ছেলে জাল ঠেলছে। ছবি তুললাম তাদেরও।
দক্ষিণে একটা জাহাজ আটকে আছে। পত্রিকায় পড়েছি এটার কথা দক্ষিণের দিকে কিছুদূর চালিয়ে গেলাম। নতুন বেড়িঁবাধ হচ্ছে। অনেকটা মেরিন ড্রাইভের মত করেই।
মুরুব্বি পেলাম একজন। জানালেন এটা চলে যাবে বাঁশখালী পর্যন্ত। গুগল ম্যাপ অন করে দেখি ওই দিকেই সাঙ্গু নদী।
শহরে ফেরার চিন্তা করে সাঙ্গু দেখতে যাওয়া হলো না। কর্ণফুলীর পর দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাঙ্গু নদীর প্রেমে পড়তে চাই।
কর্ণফুলী ও সাঙ্গুর মাঝামাঝি বঙ্গোপসাগরের পাঁশ ঘেষা পাহাড়সমেত যে ভূমি আনোয়ারা নামে টিকে আছে তাকে কিছুটা হিংসেও করেছি। এমন জায়গায় থাকার সুযোগ হয় কয়জনের?

Post a Comment

0 Comments