বাটানতলীর জল

টিটুর সাথে দেখা হওয়ার পর হালদা প্রসঙ্গ এলো। তখনি গুগল ম্যাপে হালদার খোঁজ নিতে শুরু করি। বোয়ালখালীর কদুরখিলের দক্ষিণে হাটহাজারীর বুড়িশ্চরে হালদা শুরু হয়ে শেষ হয়েছে রাউজানের শেষ দিকে গিয়ে।
এই ম্যাপ দেখেই মাথা ঘুরবার জোগাড়। টিটুকে বলা ছিল সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নাম্বার গেটের মদনহাট এলাকা থেকে হালদার দিকে যাব।
সকাল দশটা হয়ে গেল মদনহাট যেতে। ভেতরের দিকে অল্প পথ অটোরিকশা ধরে গিয়ে উত্তর মার্দাসার নেহালপুর গ্রাম থেকে হালদার পাড় পর্যন্ত গেছি হেটে।
বিলের মাঝখানে ছোট একটা রাস্তা। কিছু অংশ বাদে বাকীটা পাকা। বাড়ি একটা থেকে আরেকটা অনেক দূরে। চাষবাষ করে এমন লোকজন বাদে আর কাউকে দেখিনি।

উত্তর মার্দাসা জিরো পয়েন্টের জোড়া পুকুর পাড়ের পাশেই হালদা। ভাঙ্গন ঠেকাতে ব্লক দেয়া হয়েছে। ওখান থেকে বেড়িবাঁধ ধরে হাটতে গিয়ে ঢুকে পরেছি ভেতরের দিকে।
হালদা এই অংশে তুলনামূলক বড় হলেও ভেতরের দিকে ছোট হয়ে গেছে। গুগল ম্যাপে গহীরা অংশে সরু খাল হয়ে গেছে দেখলাম।
উইকিপিডিয়া বলছে, মানিকছড়ি উপজেলার বাটনাতলী ইউনিয়নে একটা পাহাড়ী গ্রাম আছে সালদা। সালদার পাহাড়ী ঝর্ণার ছড়া থেকে নেমে আসায় এর নাম হয়েছে হালদা।
বাটনাতলী পাহাড় হতে উৎপন্ন হয়ে হালদা ঢুকেছে ফটিকছড়িতে। ওখান থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে ও পরে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে ফটিকছড়ির বিবিরহাট, নাজিরহাট, সাত্তারঘাট, ও অন্যান্য অংশ, হাটহাজারী, রাউজান, এবং চট্টগ্রাম শহরের চান্দগাঁও-বাকলিয়ার মধ্য দিয়ে ঢুকে কালুরঘাটের কাছে এসে কর্ণফুলীতে পতিত হয়েছে।
৮১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ নদীর ২৯ কিলোমিটার মাত্র পুরো সময় নৌকা চলাচলের উপযোগী থাকে।
পূর্বদিকে হালদায় পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অনেক খাল মিলিত হয়েছে। পশ্চিমের যত খাল আছে হালদায় সব নেমে এসছে সীতাকুন্ডের পাহাড় থেকে।
এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় থেকে উৎপন্ন খালগুলো হচ্ছে মানিকছড়ি, ধুরুং, তেলপারই, সর্তা, কাগতিয়া এবং ডোমখালী খাল।
আর সীতাকুন্ড পাহাড়ী রেঞ্জ হতে উৎপন্ন হওয়া খালগুলোর মাঝে আছে গজারিয়া,ফটিকছড়ি,হারুয়ালছড়ি, বারমাসিয়া, মন্দাকিনী, বোয়ালিয়া এবং পোড়া কপালী খাল।
‘অটোরিকশায় হাটহাজারীর সরকারহাট যেতে চাইলেও বেশি ভাড়া হাঁকায় যাওয়া গেল না। আজিজিয়া ঘাট পর্যন্ত হেটে গিয়ে সরু নৌকায় হালদা পেরিয়ে গেছি রাউজানের গুজরা ইউনিয়ন।
গুজরা থেকে সিএনজি ধরে মাস্টারদার নোয়াপাড়ার বাড়িতে। মাস্টারদার স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ বাদে বিশেষ কিছু দেখার ছিল না।
ফেরার পথে নোয়াপাড়া থেকে নেয়ামত আলী হয়ে আবার নতুনপাড়া থেকে শহরে।

Post a Comment

0 Comments