দর্শনা দর্শন

গেদে স্টেশন হয়ে ফিরছিলাম। দর্শনা বাস স্ট্যান্ডে পৌছে বাস পেলাম না। দর্শনার পরিতি এক ভাইকে কল দিলাম। উনি বাইকে ঘুরে দেখালেন দর্শনা স্টেশন।
দুটো ছাগল স্টেশনে ঘুরছে দেখলাম। এর বাইরে কটা ছোকরার আড্ডা। দেখতে মনে হলো কিছুদিন আগেই পরিত্যাক্ত করা হয়েছে এ স্টেশন। অথচ দেশভাগের আগে এই স্টেশন পশ্চিমবঙ্গের স্টেশনগুলোর মতই ব্যস্ততম ছিল অথবা এখনো তাই থাকার কথা।
দুটো ছাগলের প্রতিকী উপস্থিতিতে সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের জীবন্ত ছবিই দেখলাম মনে হলো।

দর্শনায় আবার বাংলাদেশ শেষ। ১৮৭১ সালে ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ের কলকাতা-গোয়ালন্দ ঘাট রেলপথ খোলা হলে দর্শনা স্টেশনটি চালু হয়।
সেই থেকে ভারতভাগ অবধি কলকাতা, গোয়ালন্দ, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে নিয়মিত ট্রেন যোগাযোগ ছিল। ইস্ট বেঙ্গল মেল, ইস্ট বেঙ্গল এক্সপ্রেস এবং বরিশাল এক্সপ্রেস এই তিনটি ট্রেন চলাচল করেছে ১৯৬৫ সাল অবধি। তারপর হানাহানিতে বন্ধ হলো রেল।
এর আগে দীর্ঘকাল ইস্ট বেঙ্গল মেল নদীয়ার কৃষ্ণনগরের গেদে হয়ে দর্শনা আর বরিশাল এক্সপ্রেস উত্তর চব্বিশ পরগণার বনগাঁ হয়ে যশোর অবধি চলাচল করতো।
২০০৭ সালের রাষ্ট্রীয় নেতাদের ভ্রমণের মাধ্যমে গেদে-দর্শনটা রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। পরে অবশ্য স্টেশনটি জনসাধারণের জন্যে দুদিনের জন্যে উন্মুক্ত করা হয়েছে।
দর্শনা ও গেদে দুই স্টেশনের এলাকার লোকজনের প্রতি আলাদা ভালবাসা অনুভব করি।চট্টগ্রাম ও ঢাকার প্রতি ভাবাবেগ বাদ দিয়ে কোন এলাকাকে বাসলে সেটা এই এলাকা।
অবিভিক্ত নদীয়ার এই এলাকাগুলোতে ফের যেতে চাই।

Post a Comment

0 Comments