কক্সবাজার থেকে কাঠমান্ডু দুই চাকায় চেনা তার!

মোহাম্মদ সাদিকুল্লাহ এর আগে ছয়দিনেই বাইকে ঘুরেছেন পুরো বাংলাদেশ। কক্সবাজার থেকে গেছেন নেপাল। গত মাসেই চলে গেছেন লাদাখে। বেশিরভাগ সময় বেরিয়ে পড়েন একা। তিনি চাকরি করেন একটা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে।
২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর পুরো বাংলাদেশ ঘুরার জন্যে বেরিয়ে পড়েন।
প্রথম আলোকে বললেন, অফিস তখন নারায়ণগঞ্জ ছিল। ৬৪ জেলার চার জেলা (ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ) ১৫ ডিসেম্বর অফিসের ফাঁকে ৩ ঘণ্টায় শেষ করে রেখেছিলাম। আমার হিসাব ছিল, এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যেতে সময় লাগে এক ঘণ্টা, তাই দিনে ১৫ জেলা হলে, ৬০টি জেলার জন্য বরাদ্দ চার দিন। তাই ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছিলাম ১৬ ডিসেম্বর। ভোরবেলা বসুন্ধরা ৩০০ ফুট সড়ক দিয়ে সিলেটের দিকে।’

ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ হয়ে বিরতি নিয়েছিলেন বগুড়ায়।
পরদিন ভোরে আবার গাইবান্ধা হয়ে যাত্রা শুরু, সেদিন বিরতি নিয়েছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এভাবে পাঁচ দিনে ৬৪ জেলায় মোটরবাইক হাঁকিয়ে গেছেন সাদিকুল্লাহ। বলছিলেন, ‘সে এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা। মানচিত্র দেখে হয়তো একরকম চিন্তা করছি, কিন্তু পথে নেমে দেখেছি উল্টো চিত্র! বরিশাল অঞ্চল নদীবেষ্টিত। নদীতে ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে হয়, এসব হিসাব তো মানচিত্র দেখে।’
২০ ডিসেম্বর যাত্রা শেষ হয়েছিল কক্সবাজারে গিয়ে। বাইক চালিয়েছেন ২ হাজার ৫৫৯ কিলোমিটার। ৮ হাজার ৭০০ টাকার জ্বালানি খরচ হয়েছে। সেই হিসাবও রেখেছেন ভ্রমণ কড়চায়।
২০১৭ সালে কক্সাজার থেকে কলকাতা-আসানসোল-পাটনা-মুজাফফরপুর হয়ে নেপালের বীরগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে গেলেন কাঠমান্ডু। সে যাত্রায় সর্বমোট ৫ হাজার কিলোমিটার বাইক চালান তিনি।
বয়স চল্লিশের ঘরে এলেও জানালেন স্বপ্ন মহাদেশ ঘোরার!

Post a Comment

0 Comments